• বঙ্কিমদার পর এবার রামকৃষ্ণকে ‘স্বামী’ সম্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মোদীর এমন সম্বোধনে তিনি স্তম্ভিত বলে জানিয়েছেন। বাঙালি মনীষীদের নামের সঙ্গে নতুন নতুন ‘উপসর্গ’ এবং ‘প্রত্যয়’ প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন মোদীকে। বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দিতে লেখা পোস্টে মোদী লেখেন, ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।‘

    তিনি রামকৃষ্ণদেবের আধ্যাত্মিক দর্শন ও মানবকল্যাণে তাঁর প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। কিন্তু ‘স্বামী’ সম্বোধন নিয়েই আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সম্বোধন নিয়ে এই ভ্রান্তি বিলাস মোদীর প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভুল শুধরে দেন সাংসদ সৌগত রায়। তা নিয়েও জল ঘোলা হয় বিস্তর।

    বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা এবং প্রণাম জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। জন্মতিথি উপলক্ষে নিজের পোস্টে মমতা লেখেন, ‘যুগাবতার শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।‘ পাশাপাশি তিনি কামারপুকুর ও জয়রামবাটির উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন এবং ‘যত মত তত পথ’-এর শিক্ষার কথা স্মরণ করান।

    এর কিছু পরেই ইংরেজিতে করা আরেক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে মমতা লেখেন, তিনি স্তম্ভিত। তাঁর বক্তব্য, শ্রী রামকৃষ্ণকে বাঙালিরা ‘ঠাকুর’ বলেই সম্বোধন করেন। রামকৃষ্ণের শিষ্যরা প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং সন্ন্যাসীদের ‘স্বামী’ বলা হয়। কিন্তু গুরু হিসেবে রামকৃষ্ণ ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। তিনি উল্লেখ করেন, পবিত্র ত্রয়ী—ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মা সারদা দেবী এবং  স্বামী বিবেকানন্দ।

    ওই পোস্টেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে মমতা অনুরোধ করেন যাতে বাঙালি মনীষীদের জন্য এমন নিত্যনতুন উপসর্গ এবং প্রত্যয় ব্যবহার না করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, আধুনিক ভারত গড়ে তোলা এই মহান বাঙালি মনীষীদের জন্য এমন নতুন নতুন উপসর্গ এবং প্রত্যয়ের ব্যবহার করবেন না।‘

    এর আগে সংসদে জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রসঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মোদী। সংসদের ওই বক্তৃতার সময়ে একাধিক বার ‘দাদা’ সম্বোধন করতে শোনা যায় তাঁকে। অধিবেশন কক্ষেই তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল তৃণমূল। সৌগত রায় ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরে নিজেকে শুধরে নিয়ে মোদী বলেছিলেন, ‘আচ্ছা, বাবু বলছি।‘

    সেই সময় এ নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে অসম্মান করা হয়েছে। সংসদে বিতর্কের পর পশ্চিমবঙ্গে এক সভায় এসে মোদী আর ‘বঙ্কিমদা’ বলেননি। পরিবর্তে ‘বাবু’ এবং ‘ঋষি’ সম্বোধন ব্যবহার করেন। নদিয়ার তাহেরপুরের সভায় তিনি বলেন, এই মাটি দেশকে দিয়েছে বঙ্কিমবাবুর মতো মহান ঋষি, যিনি ‘বন্দেমাতরম’-এর মাধ্যমে নতুন চেতনার জন্ম দিয়েছিলেন।

    সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মতিথিতে তাঁকে ‘স্বামী’ বলে উল্লেখ করায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। বাঙালিদের মধ্যে ‘ঠাকুর রামকৃষ্ণ’ বা ‘যুগাবতার রামকৃষ্ণ’ বলারই প্রচলন রয়েছে। সেই প্রথা থেকে সরে গিয়ে ‘স্বামী’ সম্বোধন করায় রাজনৈতিক মহলে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্বোধন বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়চ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)