• ভারতের মধ্যে প্রথম মৃত মানুষের হাড় প্রতিস্থাপন
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই প্রক্রিয়াটি চিকিৎসা পরিভাষায় ‘অ্যালোগ্রাফ্ট রিকনস্ট্রাকশন’ নামে পরিচিত। এটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যেখানে রোগীর হাড়ের কোনও অংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তির হাড় থেকে প্রাপ্ত অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান সঞ্জয় কুমার। রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন, তবে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর শরীর কতটা নতুন হাড় গ্রহণ করছে এবং হাড় জোড়ার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য।

    রিজাউদ্দিনের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। লরির ধাক্কায় উরুর হাড়ের নীচের অংশ গুঁড়িয়ে যায়। এরপর আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে একাধিক অস্ত্রোপচার এবং প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তার পা পুনরায় জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালে গ্রাফ্টিংও করা হয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। তখন চিকিৎসকেরা বিকল্প হিসেবে ‘অ্যালোগ্রাফ্ট’ প্রক্রিয়ার উপর মনোযোগ দেন।

    চিকিৎসা পরিভাষায় মৃত ব্যক্তিকে ‘ক্যাডাভার’ বলা হয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তির হাড় প্রতিস্থাপন সবসময় সরাসরি করা যায় না; প্রথমে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে হয়। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও সতর্কতার মাধ্যমে হাড়টি প্রতিস্থাপন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সম্মতি নেওয়া হয়।

    অস্ত্রোপচারটি নেতৃত্ব দেন সুনীত কুমার হাজরা। সফলভাবে হাড় প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রিজাউদ্দিনের পা মূল আকৃতিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, এটি শুধুমাত্র পূর্ব ভারতের প্রথম নয়, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের প্রতিস্থাপনও নতুন। এছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং হাড়ের গ্রহণ ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত হয়।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)