জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: "স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি আধ্যাত্মিকতা ও সাধনাকে যেভাবে জীবনশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাতে যুগে যুগে মানবতার কল্যাণসাধন হয়ে চলেছে। তাঁর সুচিন্তিত বাণী ও বার্তা সবসময়ই প্রেরণা জোগায়।" রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে এক্স-হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা এই পোস্ট নিয়েই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় মোদীর ভুল শুধরে দিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি বলেন, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব স্বামী নন, ঠাকুর। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার মহান মনীষীদের ক্ষেত্রে বার বারই 'সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা’র পরিচয় রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তিনি অভিযোগ করেন, রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি জুড়েছেন। যা কিনা ভুল। ঐতিহাসিক ও প্রথাগত দিক থেকেও অনুচিত। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব স্বামী নন, ‘ঠাকুর’ হিসেবেই সর্বজনবিদিত ছিলেন। তাঁর মহাসমাধির পরে তাঁর শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন গড়ে তোলেন। পরম্পরা অনুযায়ী সেই শিষ্যদের ‘স্বামী’ বলা হয়। কিন্তু গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব চিরকাল ‘ঠাকুর’ হিসেবেই পরিচিত।
এরপরই তিনি চিরন্তন বাঙালি সংস্কৃতিতে ঠাকুর-মা-স্বামীজীর পরম্পরা স্মরণ করিয়ে দেন। লেখেন, ঠাকুর হচ্ছে ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ, মা হচ্ছেন মা সারদা দেবী ও স্বামীজী হচ্ছেন স্বামী বিবেকানন্দ। এমনটাই চিরকাল ধরে বলা হয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট লেখেন, “আজ আবারও বিস্মিত হলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে ফের সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার পরিচয় রাখলেন।" পোস্টের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার রেনেসাঁর মনীষীদের নামের সামনে বা পিছনে নিত্য নতুন উপসর্গ ও প্রত্যয় ‘আবিষ্কার’ না করার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।