আজকাল ওয়েবডেস্ক: কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা-র তৃণমূলে যোগদান ঘিরে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপির টিকিটে জিতে আসার পর থেকেই তাঁর নানা মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল দলকে। এমনকী লোকসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ রাজু বিস্ত-র বিরুদ্ধেও নির্দল প্রার্থী হিসেবেও মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপি কখনও তাঁর বিরুদ্ধে সেভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ব্রাত্য বসু-র উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা। এরপরই প্রশ্ন উঠছে—পাহাড়ে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং—তিন কেন্দ্রেই প্রার্থী দিতে পারে অনীত থাপার দল। সেই পরিস্থিতিতে কার্শিয়াংয়ে বিষ্ণু প্রসাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েই জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।
অন্যদিকে, এই দলবদলকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। দার্জিলিং জেলা বিজেপি সভাপতি কল্যাণ দেওয়ান বলেন, "বিধায়ক হিসেবেও বিষ্ণু প্রসাদের তেমন কোনও ভূমিকা ছিল না। তাঁর দলত্যাগে পাহাড়ের রাজনীতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। সাংসদ রাজু বিস্তও কড়া ভাষায় বলেন, “দলের বিধায়ক হয়েও তিনি তৃণমূলের মুখপাত্রের মতো কাজ করছিলেন। যিনি লোকসভা নির্বাচনে নোটার থেকেও কম ভোট পেয়েছিলেন, তাঁর দলবদলে কোনও প্রভাব পড়বে না।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। দলের মুখপাত্র শক্তি প্রসাদ শর্মার বক্তব্য, “আগে তিনি বিজেপির মাথাব্যথার কারণ ছিলেন, এখন তৃণমূলের মাথাব্যথা না হয়ে দাঁড়ান সেটাই দেখার। তবে তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের আসন সমঝোতা রয়েছে। কার্শিয়াংয়ে প্রার্থী আমাদেরই হওয়ার কথা। সমতলে তৃণমূল তাঁকে কাজে লাগাতে পারে, কিন্তু পাহাড়ে খুব একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।”ফলে বিষ্ণু প্রসাদ শর্মার তৃণমূলে যোগদান তাৎপর্যপূর্ণ হলেও পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে তা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।