আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর জি কর আন্দোলনের সময় রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা ব্যাহত রেখে কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় অস্ত্রোপচার করার অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগ ছিল, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ফিরিয়ে দিয়ে একই চিকিৎসকরা বেসরকারি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অপারেশন করে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
এই ধরনের ঘটনা রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী একটি প্যাকেজভিত্তিক পরিষেবা। বিভিন্ন রোগ ও অস্ত্রোপচারের জন্য নির্দিষ্ট প্যাকেজ রেট রয়েছে যা নির্ধারণ করেন মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
তবে সময়ের সঙ্গে রোগীর চাহিদা ও পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। বিশেষ করে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিশারেকটমি এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে রোগীর চাপ বেড়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিশারেকটমি এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি এই চার ধরনের অস্ত্রোপচার এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমেও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় করা যাবে, তবে শর্ত সাপেক্ষে।
সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত যোগ্য ও অনুমোদিত বেসরকারি সার্জনের মাধ্যমেই অস্ত্রোপচার করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা সরকারি দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এই অপারেশন করতে পারবেন না, এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে সরকারি সার্জনরা আগের মতোই এই সমস্ত অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাবেন। সরকারি পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করার প্রশ্ন নেই।
বরং রোগীদের সুবিধার্থে বেসরকারি ক্ষেত্রেও পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আরজি কর মেডিকেল কলেজের মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসক তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, ফিশারেকটমি ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির ক্ষেত্রে গেট-কিপিং শিথিল হওয়াকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছি। এতে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও পরিষেবা পাবেন। তবে যোগ্য ও রেজিস্টার্ড সার্জনের মাধ্যমে অপারেশন হওয়া এবং প্যাকেজ রেট ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গেট-কিপিং শিথিল করা মানে দায়িত্বও বেড়েছে। সঠিক নজরদারি না থাকলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকবে। তাই স্বচ্ছতা ও অডিট ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিকিৎসক সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, ‘এই ব্যবস্থাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত চিকিৎসকরা ডিউটির সময় সম্পূর্ণ পরিষেবা দেওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন। কিন্তু সরকারি বেতন নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা না করে বেসরকারি প্র্যাকটিস করা বা স্বাস্থ্যসাথীর অপব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেসিডেন্ট ও পিজিটি চিকিৎসকদের সরকারি ভাতা নিয়ে বাইরে গিয়ে অপারেশন বা চিকিৎসা করা বেআইনি।’
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা জানান, উপভোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসাথী প্যাকেজগুলি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সময়ে সময়ে সংস্কারমূলক নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।
মূল লক্ষ্যই হল, রোগীরা দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা পান এবং সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নতুন নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।