BJP'র স্ক্রিন টাইম শূন্য, ভোটের মুখে শুধু CPM-তৃণমূল
আজকাল | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে হঠাৎই রাজ্য রাজনীতিতে তুফান। আর ঝড়ের কেন্দ্রে সিপিআইএম-এর এক নেতা, যিনি সদ্য প্রাক্তন। তাঁর দলত্যাগ ও সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। আর তাতেই রাজ্য রাজনীতির চিত্রনাট্যে মেগা-সিরিয়ালের মতো বদল এসেছে। যেন হঠাৎ করে এসে পড়েছে এমন এক নতুন চরিত্র, যাতে গোটা ঘটনাটাই বদলে গিয়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন ন্যারেটিভ। আর তাতেই বিজেপি-তৃণমূলের বাইনারির স্থান নিচ্ছে সিপিএম ও তৃণমূলের লড়াই, অন্তত টেলিভিশন বা সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে তো বটেই। সিপিএমের এক রাজ্য কমিটির সদস্য তাই ঠাট্টা করে বলছেন, ‘শেষ তিনদিন ধরে এত ফোন ধরেছি, সে আর বলার নয়। হঠাৎ যেন মিডিয়ার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে আমাদের নিয়ে।’ সিপিএমের সমর্থকরা তো ফেসবুকে লিখছেন, এখন সিপিএমের নেতারা হাঁচলে-কাশলেও মিডিয়ার লোকেরা সেটা নিয়ে খবর করছে, এটা তো বড় বিষয়। আগে যেখানে মিডিয়ার পাত্তা ছিল না মোটে, এখন সেই পাত্তা হঠাৎই বেড়েছে বহুগুণ। কোনও কোনও নিন্দুক আড়ালে এটাও বলতে ছাড়ছেন না, আসলে প্রতীক উরের দলত্যাগের চিঠি, সেই নিয়ে তোলপাড় হওয়াটা আসলে পাবলিসিটি স্টান্ট। ভোটের আগে আবারও মানুষের মনে বামপন্থীরা কতটা জাগ্রত, সেটা ঝালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। আরও বেশি বেশি করে স্ক্রিন-টাইম পাচ্ছেন সিপিএমের নেতারা, আরও বেশি করে পার্টির কথা, অবস্থানের কথা বলতে পারছেন। সেখানে মহম্মদ সেলিমের মতো কোনও-কোনও নেতা কলার খোসা দেখিয়ে আশু সম্ভাবনায় জল ঢাললেও আপাতত বাংলা বাজারে প্রতীক উর, সিপিআইএম আর তৃণমূল ছাড়া কোনও আলোচনা চোখে পড়ছে না।
যে কোনও সময়ে ভোটের মুখে রাজনৈতিক দল চায় তাঁর প্রতিনিধিরা রোজকার খবরে থাকুন, তাঁরা তাঁদের কথা সংবাদমাধ্যমের মধ্য দিয়ে পৌঁছে দিন মানুষের কাছে। কিন্তু আসনের বিচারে বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে। স্বাভাবিক ভাবে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। এ ছাড়া সে দলে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষের মতো নেতারা আছেন, যাঁরা চাঁচাছোলা ভাষায়, তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলকে। মিডিয়ার কাছে সেটি বড় খাদ্য। কিন্তু সিপিএম একে শূন্য, বিকাশ ভট্টাচার্যের আদালত ফেরত কিছু আলটপকা মন্তব্য ছাড়া মিডিয়ার কাছে মুখোরোচক রাজনৈতিক তরজা তৈরির লোক সিপিএম-এ নেই। কিন্তু প্রতীক উরের বিস্ফোরক চিঠি, তাঁর তৃণমূল যোগের জল্পনা, সব মিলিয়ে ভোটের মুখে এমন মুখরোচক বিষয় স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ মানুষের মন কেড়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই কার্শিয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এ ঘটনা অন্য সময়ে হলে যতটা গুরুত্ব পেত, তার এক আনাও গুরুত্ব তা পায়নি। সকলে শুধু খোঁজ করছে, প্রতীক উর কী করছেন, কী বলছেন, কোন দলে যাচ্ছেন, তা নিয়ে তৃণমূল কী বলছে। এসব দেখা ছাড়া তো আর বিশেষ কাজ নেই বিজেপি-এর।
প্রতীক উর পর্ব মিটে গেলেও কিন্তু এর রেশ থেকে যেতে বাধ্য। এমনিতেই বিজেপি এবার অর্ধেক পরাজয় মেনে নিয়েই ভোটে নামছে। আগের মতো ঝাঁঝ নেই, নেই আগের মতো ‘ত্যাজ’। এই পরিস্থিতিতে দলবদলের আগে-পরে যদি সিপিএম সামান্য ফায়দা তুলতে না পারে, তা হলে সোনার সুযোগ হাতে হারানোর উপমা দিতেই হবে। আর যদি শীর্ষে ওঠা মোমেন্টাম ধরে রাখতে পারে, তা হলে সিপিএমের স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধির একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।