• হেরিটেজ ওয়াকে কালোবাজারির অভিযোগ বিশ্বভারতীতে
    আজকাল | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট বিক্রি নিয়ে কালোবাজারি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসতেই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কড়া অবস্থান নিল বিশ্বভারতী।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রেস বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের একটি অংশে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রচেষ্টা।

    হেরিটেজ ওয়াক অত্যন্ত সফলভাবে চলার প্রেক্ষিতেই এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই প্রকৃত তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরতে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিশ্বভারতী বিবৃতি মারফত জানিয়েছে, 'হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট শুধুমাত্র রবীন্দ্রভবনের নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকেই নির্ধারিত মূল্যে দেওয়া হয়। কোনও এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর বা ব্যক্তিগত মাধ্যমের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির কোনও ব্যবস্থা নেই। যদি কেউ অন্য কোনও মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে থাকেন, তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না। তবে এ ধরনের ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে তা উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের সরাসরি রবীন্দ্রভবনের কাউন্টার থেকেই টিকিট সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'

    পাশাপাশি জানানো হয়েছে, স্বচ্ছতা বাড়াতে অদূর ভবিষ্যতে অনলাইন টিকিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রিয়াধে ইউনেস্কোর ৪৫তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির অধিবেশনে শান্তিনিকেতন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি  লাভ করে।

    এরপর থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে হেরিটেজ ওয়াক চালুর উদ্যোগ নেন।

    গত ২৩ জুলাই পরীক্ষামূলক ট্রায়াল সম্পন্ন হয় এবং ৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হেরিটেজ ওয়াক শুরু হয়। নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে দর্শনার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস উন্মুক্ত করার এই পদক্ষেপ অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পায়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বিবৃতিতে জানান, হেরিটেজ ওয়াককে ঘিরে বিপুল সাড়া মিলেছে। দর্শনার্থীদের আগ্রহ এবং অংশগ্রহণের হার ক্রমাগত বেড়েছে।

    সেই সাফল্যই কিছু মহলের বিরাগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির যাত্রাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, হেরিটেজ ওয়াককে ঘিরে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। তবে সেই জনপ্রিয়তাকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা দুঃখজনক।

    তিনি সকলকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণাকেই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, 'বিশ্বভারতী দীর্ঘ ইতিহাসে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু কোনও অপপ্রচারেই তার অগ্রগতি থামানো যায়নি। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি রক্ষা এবং রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-দর্শন, শিল্প-সংস্কৃতি ও স্থাপত্য ভাবনাকে সঠিকভাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বদ্ধপরিকর।'

    গত এক বছরে একাধিক প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
  • Link to this news (আজকাল)