• সিপিএমে দীপ্সিতা ধরকে নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সদস্যপদ নবীকরণের সময়সীমা থাকে। তবে সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সাধারণত জানুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে তা জেলা স্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন স্তরে ‘পার্টিকেন্দ্রের সদস্যপদ’ নামে পরিচিত বিশেষ সদস্যপদও থাকে, যেগুলির নবীকরণ সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও দীপ্সিতা ধরের সদস্যপদ নবীকরণ না হওয়ায় তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    সূত্রের খবর, দীপ্সিতার সদস্যপদ পশ্চিমবঙ্গে নয়, দিল্লিতে নথিভুক্ত। তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালীন সময় থেকেই সেখানে দলের সদস্য হন। ফলে তাঁর সদস্যপদ নবীকরণের বিষয়টি দিল্লি সংগঠনের আওতাতেই পড়ে।

    এই প্রসঙ্গে দীপ্সিতা বলেন, ‘আমার পার্টি সদস্যপদ দিল্লিতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুনর্নবীকরণের সময় রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পার্টির সদস্যপদ এবং নবীকরণ সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা সংবাদমাধ্যমে কী ভাবে এল, সে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’ যদিও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি সদস্যপদ নবীকরণ করেননি। একইসঙ্গে তিনি এ কথাও নিশ্চিত করেননি যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সদস্যপদ নবীকরণ করবেনই।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে দীপ্সিতার মতো যাঁদের সদস্যপদ রয়েছে, তাঁদের অধিকাংশেরই নবীকরণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দীপ্সিতার ক্ষেত্রে দেরি হওয়ায় তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান ও দায়িত্ব নিয়ে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ২০১৮ সালের পর থেকে তিনি কোনও নির্দিষ্ট শাখার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি গত বছর জুলাইয়ের পর থেকে তাঁর কোনও গণসংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগও নেই।

    এই পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে আগে জোরালো সম্ভাবনা ছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন এবং উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে উত্তরপাড়া থেকে বিধানসভা প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলীয় মহলে আলোচনা চলছিল।

    তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষীণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, উত্তরপাড়া এলাকায় ইতিমধ্যেই মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা বেড়েছে। তিনি নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ফলে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামই এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    প্রসঙ্গত, অতীতে দলের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসের কন্যা অজন্তা বিশ্বাসও দলীয় সদস্যপদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। যদিও সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে সব মিলিয়ে, সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে দীপ্সিতা ধরের অবস্থান এখন সিপিএমের অন্দরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। তিনি শেষ পর্যন্ত সদস্যপদ নবীকরণ করবেন কি না, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবেন— সেই দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)