দক্ষিণ কলকাতার রোল অবজার্ভার মুরুগানকে তলব কমিশনের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনও নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে দেওয়া যাবে না। সব নির্দেশ বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করতে হবে। একইসঙ্গে মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা শুধুমাত্র সহায়ক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কোনও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই বলে আদালত জানিয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতিতেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিশেষ পর্যবেক্ষক সরাসরি মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দিচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘কার নির্দেশে এই কাজ হচ্ছে এবং কেন আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না?’ তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনা সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকার পরিপন্থী। এছাড়া তাঁর অভিযোগ, রোল অবজার্ভারদের লগইন তথ্য ব্যবহার করে কলকাতার একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্বাচনী পদ্ধতির তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লগইন তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদ আরও জানান, এই বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হলে লগইন যন্ত্রের অবস্থান এবং প্রকৃত পর্যবেক্ষকের অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দক্ষিণ কলকাতার সংশ্লিষ্ট রোল অবজার্ভারকে তলব করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাপ্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে তা কঠোরভাবে তদন্ত করা হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।