একের পর এক খুন! টানটান রহস্যে মোড়া গল্প নিয়ে আসছে রাজা চন্দের ‘কাটাকুটি ২’, প্রকাশ্যে ট্রেলার
আজকাল | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রহস্যে ঘেরা ছবির মোড়ে কোন নতুন চমক অপেক্ষা করছে, তা জানতে বরাবরই আগ্রহী দর্শকমহল। সিনেপ্রেমীদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই বাংলায় তৈরি হচ্ছে একের পর এক থ্রিলার ছবি। সেই তালিকায় অন্যতম 'কাটাকুটি' । আরও একবার রহস্যের জালে বোনা গল্প বলতে আসছেন পরিচালক রাজা চন্দ। আসছে সেই ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিজন। ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে ট্রেলার।
মনস্তাত্ত্বিক ঘরানার থ্রিলার ‘কাটাকুটি ২’। একের পর খুনের নেপথ্যে কে? আপাতভাবে যাকে নির্দোষ মনে হচ্ছে, তা নিছক অভিনয় নয় তো? এমনই সব প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে এই সিক্যুয়েল। বিচার ব্যবস্থার ব্যর্থতা থেকে একজন বাবার নিজের সম্মান ফেরানোর মরিয়া লড়াইয়ের চেষ্টা, ট্রেলার জুড়ে ভরপুর উত্তেজনা। সম্প্রতি হয়ে গেল ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন সিরিজের কলাকুশলীরা।
ট্রেলার লঞ্চে রাজা চন্দ বলেন, “যে কোনও ছবির ট্রেলার লঞ্চ মানেই মনে হয় যেন মহালয়া। ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। ‘কাটাকুটি’-র সাফল্যকে নিয়ে ‘কাটাকুটি ২’ তৈরির ভাবনা। এই সিরিজ ঠিক সিক্যুয়েল নয়, ‘কাটাকুটি’-র সঙ্গে গল্পের তেমন মিল নেই।” একইসঙ্গে গল্পের প্রয়োজনে নৃশংসা দেখানো হলেও ব্যবহারিক জীবনে দর্শকদের এবিষয়ে সতেচন থাকার আর্জি জানিয়েছেন পরিচালক।
‘কাটাকুটি ২’-এর গল্প শুরু হয় সমীর মন্ডল নামের এক ব্যক্তির জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার মাধ্যমে। সাত বছর আগে ছাত্রী নন্দিনী গুপ্ত খুনের অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়। প্রমাণের অভাবে আদালত তাকে মুক্তি দিলেও সমাজ তাকে এখনও খুনি হিসেবেই দেখে। সমীরের ব্যক্তিগত জীবনও তছনছ হয়ে যায়। তার স্ত্রী সুষমা এখন সমীরেরই বন্ধু অশোকের স্ত্রী। আর মেয়ে তুলি অশোককেই নিজের বাবা বলে জানে।
সমীরকে নির্দোষ বিশ্বাস করেন দুই সাংবাদিক রাকা ও টিনটিন। তারা নিজেরাই তদন্তে নামেন। রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে তারা সুন্দরবনের হাজিডিঙ্গা গ্রামে এক কিশোরী বিন্তির পুরনো খুনের খবর পান। একইসঙ্গে একটি সমান্তরাল তদন্ত শুরু করেন। সুন্দরবনের হাজিডিঙ্গা গ্রামের বিন্তি নামক এক কিশোরীর পুরনো খুনের মামলার সন্ধান পান তাঁরা। যার সঙ্গে অদ্ভুত মিল রয়েছে নন্দিনী খুনের। সূত্র ধরেই সামনে আসে ধ্রুবজ্যোতি মিত্র ওরফে রঙিন-এর নাম। পেশায় সে একজন আর্ট টিচার। ছোটবেলায় বুল্টি নামের এক মহিলার কাছে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ধ্রুব। সেই পুরনো কষ্ট থেকেই সে তরুণী শিল্পীদের খুন করতে শুরু করে।
গল্পের শেষ ভাগে ধ্রুব সমীরের মেয়ে তুলিকেই নিজের পরবর্তী শিকার বানায়। ঠিক সময়েই সেখানে পৌঁছে যায় সমীর। নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে সে চরম সিদ্ধান্ত নেয়। ধ্রুবকে সঙ্গে নিয়ে বহুতল থেকে ঝাঁপ দেয় সমীর। মৃত্যুর আগে মেয়ের চোখে সমীর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে। তবে সেই বুল্টি এখনও অন্য এক শিশুর উপর অত্যাচার করছে, গল্পের শেষে আবার এক ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দেওয়া হয়।