• দৃশ্যদূষণ রোধে শুরু অভিযান, রেলস্টেশন ও শৌচাগারে বেআইনি পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ‘বাঙালি বাবা’
    এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং পরীক্ষায় ভালো রেজ়াল্ট করতে চতুর রামালিঙ্গমকে এক ধরনের ভেষজ গুঁড়ো (চূরণ) খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন জনৈক ‘বাঙালি বাবা’। ওই চূরণ খেয়ে চতুরের কতটা উপকার হয়েছিল সেটা বলা মুশকিল, কিন্তু হস্টেলে তাঁর রুমমেটদের তিষ্ঠানো দায় হয়ে পড়েছিল। চূরণের ‘এফেক্টে’ মাঝে মাঝেই ঘর ভরে যেত দুর্গন্ধে। তার দৌলতেই চতুরকে ‘সাইলেন্সার’ নাম দেওয়া হয়েছিল। ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির পরে ফের প্রাসঙ্গিক আবার এক ‘বাঙালি বাবা’। সিনেমার বাবার দেওয়া চূরণ বায়ুদূষণের কারণ ছিল। আর পশ্চিম (ওয়েস্টার্ন) ও মধ্য (সেন্ট্রাল) রেলওয়ে জ়োনের রক্ষীদের যৌথ অভিযানে ধরা পড়লেন যে ‘বাঙালি বাবা’, তিনি দৃশ্যদূষণের কারণ।

    রেলের ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল জ়োনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই দুই জ়োনের বিভিন্ন লোকাল ট্রেন এবং দূরপাল্লার ট্রেনের কামরায়, শৌচাগারে, প্ল্যাটফর্মে এবং স্টেশন–চত্বরে প্রেমঘটিত সমস্যার সমাধান, মনের মতো জীবনসঙ্গী পেতে সাহায্য করা, যৌন সমস্যার সমাধান, পারিবারিক বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া এবং বশীকরণের মতো বিভিন্ন রকমের দাবি সম্বলিত পোস্টার সাঁটানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার মুম্বই সাবার্বান রেলওয়ের হারবার লাইনের রে রোড স্টেশনের আশেপাশে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার। স্টেশনের কাছেই দারুখানা এলাকার মির আলি দরগা অঞ্চল থেকে মহম্মদ নজির আন্দারি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ধৃত ব্যক্তির থেকে প্রায় ১৫ হাজার ছাপা পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলের আধিকারিকরা। এতদিন ধরে রেল চত্বরে প্রদর্শনের যে ধরনের পোস্টার দেখা যাচ্ছিল, এই পোস্টার সেই ধরনেরই। এই পোস্টারগুলো স্বঘোষিত এক ‘বাবা বাঙালি’-র পরিষেবা প্রচারের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পরে ধৃত ব্যক্তি রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রেল সম্পত্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনমূলক কার্যকলাপ পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, পোস্টার মুদ্রণ ও রেল কোচের ভিতরে সেই পোস্টার সাঁটানোর কাজে আরও কয়েক জনের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ সংস্থা ও পোস্টার সাঁটানোর কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল। ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় রেল আইন-এর ১৪৪, ১৪৫(খ), ১৪৭ এবং ১৬৬ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

    ট্রেনে, ট্রেনের শৌচাগারে, প্ল্যাটফর্মে এবং স্টেশন চত্বরে পোস্টার মারা প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে ডিভিশনের থেকে লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও ট্রেন বা রেলের আওতায় থাকা কোনও এলাকাকে বিজ্ঞাপনী প্রচারের জন্য ব্যবহার করা ভারতীয় রেল আইন ১৯৮৯ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য অপরাধী ব্যক্তির চড়া জরিমানা এমনকী, একমাসের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

    অতীতে এই ধরনের একটি মামলায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের উল্লেখ করে পূর্ব রেল জানিয়েছে, হাইকোর্ট ট্রেন ও স্টেশন–চত্বর থেকে সব ধরনের পোস্টার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। যাঁরা পোস্টার মেরেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এঁদের খুঁজে না পাওয়া গেলে যে ব্যক্তি বা সংস্থার প্রচারে পোস্টার, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

    পূর্ব রেল জানিয়েছে, যেখানে–সেখানে পোস্টার মারার ফলে দৃশ্যদূষণ হয় এবং এই ধর‍নের পোস্টার যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করে, সেই পরিবেশ কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের পরিপন্থী। শুধু ওয়েস্টার্ন এবং সেন্ট্রাল রেলই নয়, প্রতিটি রেলওয়ে জ়োনেই এমন বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (এই সময়)