• রাজ্যের বকেয়া মেটানোর দাবি, কেন্দ্রকে তোপ বামপন্থী ব্যাংক কর্মচারী সংগঠনের
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে রাজনীতি করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারাই আবার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে রাজ্যকে। এ রাজ্যে ব্যাংক কর্মচারীদের বৃহত্তম বামপন্থী সংগঠনের সম্মেলন থেকে এমনই দাবি শীর্ষ নেতৃত্বের। তাদের তোপ, যেখানে দারিদ্র, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধির মতো সমস্যায় নাজেহাল ভারত, সেখানে ‘এক দেশ এক ভোট’ নিয়ে মেতে আছে কেন্দ্র। আসলে মূল সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরাতেই এই উদ্যোগ। কেন্দ্রের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপের সমলোচনাও করা হয়েছে তাদের রিপোর্টে। বলা হয়েছে, এসআইআর পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নেই। মানুষের হয়রানি তো আছেই। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ বিজেপিকে ভোটে জিততে সাহায্য করছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।

    প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলন আয়োজন করে এ রাজ্যের ব্যাংক কর্মচারীদের সংগঠন ‘বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন’। বামপন্থী রীতি অনুযায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিপোর্ট পেশ করেন সম্মেলনে। সেখানে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক, জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের নানা ইস্যুকে সামনে আনা হয়। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে উঠে এসেছে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্তা এবং রাজ্যেকে আর্থিক বঞ্চনার প্রসঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকার যে স্রেফ রাজনীতি করার জন্য রাজ্য সরকারের পরিবর্তে বিরোধী শিবিরের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
    সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রিপোর্টটি পেশ করেছেন রাজেন নাগর। তিনিই পরবর্তী কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। রিপোর্টে তিনি আরও দাবি করেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব দলের উপরে উঠতে পারেনি। তারা রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে বাংলায় সমস্যা তৈরির জন্য বিরোধীদের সাহায্য করছে। রাজ্য সরকারের একাধিক খাতের পাওনা টাকা আটকে রেখেছে তারা। বাংলার প্রতি তাদের এই বিমাতৃসুলভ আচরণকে কখনোই ভালো বলা চলে না। আমাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বকেয়া মিটিয়ে দিক।’

    ‘এক দেশ এক ভোট’ ব্যবস্থা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ নিয়ে বলা হয়েছে, ‘এর জন্য সংবিধানে বদল আনা প্রয়োজন। তারপরও বিষয়টি বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। আসলে মূল সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরাতেই মোদি সরকারের এই ছলনা।’

    নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের রিপোর্টে একইভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসআইআরে স্বচ্ছতা নেই। একাধিক নির্দেশিকা বারবার সাধারণ নাগরিককে বিভ্রান্ত করেছে। যেভাবে প্রবীণ নাগরিকদের হয়রান হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিছু মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।’ ভোট ব্যবস্থায় কারচুপি করে কমিশন বিজেপিকে ভোটে জিততে সাহায্য করছে বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।

    এর পাশাপাশি রিপোর্টে রাজ্যে সরকারের হরেক সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উল্লেখ রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় আছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু, বিনামূল্যের সামাজিক সুরক্ষা যোজনা, খাদ্যসাথী, দুয়ারে রেশন, কন্যাশ্রী প্রভৃতি স্কিম। ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পও যে সাধারণ নাগরিকদের সুবিধা প্রদান করছে, উল্লেখ করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে। পাশাপাশি রয়েছে দুর্নীতি, ঠিকাভিত্তক কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থার মতো বিষয়গুলিও।
  • Link to this news (বর্তমান)