• লাইন দিয়ে যুবসাথীতে আবেদন বিজেপির যুব নেতা-নেত্রীদের
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: লাইন দিয়ে যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেন বিজেপির পুরুলিয়া শহরের বুথ সভাপতি। প্রকল্প শুরুর পরের দিনই তড়িঘড়ি গিয়ে নিজের ফর্ম জমা দিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা। তবে শুধুমাত্র বিজেপির শহরের একটি বুথের সভাপতি নন, জেলার বিভিন্ন এলাকার বিজেপির যুব নেতানেত্রীদের যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।

    পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির যুব নেতানেত্রীরা কেউ প্রকাশ্যে, কেউ আবার পরিবারের অন্য কারও মাধ্যমে যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করতে শুরু করেছিলেন। তারপর পুরুলিয়া শহরের বিজেপির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বিষ্ণু স্বর্ণকারের যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিজেপির ওয়ার্ড সভাপতির লাইনে দাঁড়ানোর ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি গৌরব সিং। তিনি বলেন, বিজেপি নেতারা নিজেরা রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন অথচ সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। নিজেরা লাইনে দাঁড়িয়ে যে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার জন্য অন্যদের কটাক্ষ করছেন। এটাই বিজেপির চরিত্র।

    এ বিষয়ে বিষ্ণু স্বর্ণকার বলেন, সরকারি প্রকল্প তো তৃণমূলের নিজস্ব নয়। তাই গত সোমবার প্রকল্পের আবেদন করেছি। এতে দোষের কী আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হওয়ায় বিষ্ণুবাবু বলেন, ওরা তো আর আমাকে বলে ভিডিও তোলেনি। লুকিয়ে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছে। তিনি খানিকটা ঢোঁক গেলার সুরেই বলেন, আসলে ওই টাকা সত্যি পাওয়া যাবে কি না তা দেখার জন্যই আবেদন করেছি। কারণ আমার স্ত্রী কাবেরী স্বর্ণকার প্রায় দেড়বছর আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই টাকা তো ঢোকেনি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ফর্মও পাইনি পুরুলিয়া পুরসভা থেকে। তাই কোনো সুযোগ সুবিধা এলেই আবেদন করি খতিয়ে দেখার জন্য। তবে শুধু পুরুলিয়া শহরের বিজেপির বুথ সভাপতি নন, বরাবাজারের এক বিজেপির নেত্রীকেও লাইন দিয়ে যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করতে দেখা গিয়েছে। বুধবার বরাবাজারে যুবসাথীর ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করেন মল্লিকা ভুঁইয়া নামে ওই বিজেপি নেত্রী। তিনি বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রের মণ্ডল ২-এর সহ সভানেত্রী। তিনি গত নির্বাচনে পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসাবেই যুবসাথীর আবেদন করেছি। নাগরিক হিসাবে ভাতা পাওয়ার অধিকারী। উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি পাইনি। যতই যুবসাথীতে আবেদন করি না কেন, এ কথা তো সত্যি যে, সরকারের কর্মসংস্থান দেওয়া উচিত। দল বিরোধিতা করলেও নিজে তো বেকার। তাহলে আবেদন করব না কেন। চাকরি পেলে তো আর লাইন দিতে হতো না। মুখে স্বীকার না করলেও গোটা বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
  • Link to this news (বর্তমান)