কাটোয়ায় ট্রেনের কামরায় অগ্নিকাণ্ডের জের প্রতিটি স্টেশনে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া-আজিমগঞ্জ ট্রেনের অগ্নিদগ্ধ বগির দরজা আগে থেকেই খোলা ছিল। আগুন লাগার ঘটনায় দরজা খোলার তত্ত্বকেই তুলে ধরছেন তদন্তকারীরা। তাই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে। এবার ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্টেশনের অবস্থা জানাতে হবে ডিভিশনের হেডকোয়ার্টারে।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, কাটোয়ায় ট্রেনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর স্টেশনগুলিকে নানা নির্দেশিকা দিয়েছি। তাছাড়া, আমাদের সিসিক্যামেরা আরও বাড়ানো হবে।
পূর্ব রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রতিটি স্টেশনের তথ্য ডিভিশন হেডকোয়ার্টারে ছবি সহ জানাতে হবে। চালক ও গার্ডদের নিজেদের কামরার দরজা বন্ধ করে নেমে আসতে হবে। তাঁরা যে দরজা বন্ধ করছেন, তার ছবি তুলে পাঠাতে হবে। স্টেশনগুলিতে বিনা টিকিটে কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া, ফাঁকা কামরায় কাউকেই থাকতে দেওয়া হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে ফাঁকা কামরায় ঘুমান। গাড়ি ছাড়তে দেরি থাকায় তাঁরা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যেকোনো ট্রেনের কামরায় উঠে যান। এবার থেকে সেটা আর হবে না।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ভোরে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার একটি লোকাল ট্রেন কাটোয়া স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল। ওই ট্রেনেরই একটি বগি ভয়াবহ আগুনে পুড়ে খাক হয়ে যায়। যাত্রীরা প্রাণভয়ে প্ল্যাটফর্মেই ছোটাছুটি করতে থাকেন। রেলপুলিশ ও হকাররা তড়িঘড়ি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। পাশাপাশি, ট্রেনটির অন্যান্য কোচগুলি তড়িঘড়ি জ্বলন্ত কামরা থেকে আলাদা করে দেন রেলকর্মীরা। এরপর দমকলের দু’টি ইঞ্জিনের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পরও কাটোয়া স্টেশন কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফিরছে না। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পাশে পড়ে রয়েছে বহু পুরানো কামরার রেক। রেলকর্মীদের একাংশ বলছে, ওই পরিত্যক্ত রেকগুলিতে ঝোপজঙ্গলে ঢেকেছে। যেকোনো সময় সেখানেও আগুন লেগে যেতে পারে। অথচ রেলের হুঁশ নেই।
তবে, কাটোয়ার ঘটনার পর এখনও রেলের তরফে তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি রেলপুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, দাঁড়িয়ে থাকা বগিটিতে ব্যাটারি সংযোগ ছিল। সেক্ষেত্রে কেন সংযোগ বন্ধ করা হয়নি, তাও জানার চেষ্টা করা হবে। তাঁরা মনে করছেন, রেলকর্মীদের গাফিলতির জেরেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে কাটোয়া স্টেশনে থাকা রেলকর্মীদের তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন তাঁরা বগিটির দরজা বন্ধ করেননি, তা জিজ্ঞাসা করা হতে পারে।