• দুর্গাপুরে নতুন হাসপাতালের উদ্বোধনে এসে বিতর্কে শমীক, মালিক ধর্ষণে অভিযুক্ত জেল খাটা বিজেপি কর্মী
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ২০২১ সালের রিমেক ২০২৬ সালে। তৎকালীন বিজেপির রাজ্য‌ সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বাম আমলের কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁ। এবার ধর্ষণের অভিযোগে তিন মাস তিহার জেলে বন্দি ব্যবসায়ী হিরন্ময় দাসকে শুধু বিজেপিতে যোগদান করানো হয়নি। বৃহস্পতিবার তাঁর বেসরকারি হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাৎপর্যপূর্ণভাবে জমিটি আবার রাজু ঝাঁয়ের! সবমিলিয়ে মামুলি একটা শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। লোকজন বিতর্ক তুললেও অভিযুক্তের উপরই দায় ঠেলে কোনওরকমে মুখরক্ষা করেছেন শমীকবাবু। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনিই উত্তর দেবেন। দেশে আ‌ইনের শাসন রয়েছে। আপনাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় গিয়ে মামলা করে দিন।’ হিরন্ময়ের বিরুদ্ধে কাঁকসা থানাতেও এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাটেরও ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় বেসরকারি ওই হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান কার্যত বিজেপি মঞ্চের রূপ নেয়। হওয়াটাই স্বাভাবিক। সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন হিরন্ময়। তারউপর তাঁরই হাসপাতাল উদ্বোধনে হাজির খোদ দলের রাজ্য সভাপতি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণের উপর জোর দেন। মঞ্চে তখন বিজেপি এমপি সৌমিত্র খাঁ, বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা’র সঙ্গে এক আসনে হিরন্ময়ও। বিজেপির রাজ্যসভার এমপি শমীক ভট্টাচার্যকে পুষ্প স্তবক দিয়ে বরণ করে নেন তিনি। বিতর্কিত ব্যবসায়ীর অনুগামীদের তখন বুকের ছাতি চওড়া। অনেকে হিরন্ময়কেই দুর্গাপুরে বিজেপি মুখ হিসাবে দেখা শুরু করেছেন। ঠিক সেই সময়েই ছন্দ পতন। সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে আসে। যরপরনাই বিড়ম্বনায় পড়ে যায় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সভাপতি কোনওরকমে দায় অভিযুক্তের ঘাড়ে চাপিয়ে সরে পড়েন। উপস্থিত বাকি নেতারা কেউই প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।

    জানা গিয়েছে, হাসপাতালটি যে জমিতে হচ্ছে, তা আগে ছিল কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁর। এক হাত ঘুরে সেখানে হাসপাতাল হচ্ছে। দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় হিরন্ময়ের মার্বেলের বড় কারবার। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, করঙ্গপাড়ায় দেবত্তর সম্পত্তি লুটের অভিযোগ রয়েছে। বার বার নারীঘটিত বিবাদে জড়িয়েছেন এই ব্যবসায়ী। কাঁকসা থানাতে এক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীকালে এক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগে তিনি তিন মাস দিল্লির তিহার জেলে বন্দি ছিলেন। এহেন ব্যবসায়ীকে বিজেপিতে দুর্গাপুরে ঘটা করে যোগদান করার ব্যবস্থা হয়। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে লকেট হিরন্ময়ের হাতে পতাকা তুলে দেননি। স্থানীয় এক নেতা পরিস্থিতি সামাল দেন। অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে হিরন্ময়ের বিজেপিতে যোগদান সম্পন্ন হয়। এদিন অবশ্য নিজের প্রস্তাবিত হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বিজেপি সভাপতিকে এনে সেই আক্ষেপ সুদে-আসলে পুষিয়ে নিয়েছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী।
    তবে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে অকপট হিরন্ময়। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকেই আমি মনেপ্রাণে বিজেপি কর্মী। আনুষ্ঠানিক ভাবে দু’মাস আগে দলে যোগ দিয়েছি। ধর্ষণের অভিযোগে তিহারে জেল খাটতে হয়েছে। সেই মামলায় আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। কাঁকসা থানাতেও এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন। আসলে, টাকা আদায়ের জন্য অনেকেই এসব করে থাকে। তাই আমি পাল্টা মানহানির মামলা করি না।’ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘যাঁরা নারীকে সম্মান করেন, বর্তমান বিজেপি তাঁদের জন্য নয়। তাই, বহু ভালো মানুষ বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আর হিরন্ময়দের মতো ব্যবসায়ীরা সেই জায়গা পূরণ করছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)