• কামারপুকুরে পালিত ঠাকুরের জন্মতিথি চর্চায় মোদির পোস্ট, ভক্তদের নিন্দা, ‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব’ বলে ঠাকুরকে সম্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • রামকুমার আচার্য, কামারপুকুর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বৃহস্পতিবার দিনভর সরগরম থাকল কামারপুকুর। এদিন ছিল ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৯১তম জন্মতিথি। সেই উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী উৎসব শুরু হয়েছে কামারপুকুরে। এর মধ্যেই সকাল ৯টা ১২ মিনিট নাগাদ সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি হিন্দিতে লেখেন—‘স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্ম-জয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।’ গোল বাঁধে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে প্রধানমন্ত্রীর ‘স্বামী’ সম্বোধন করা নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেট নাগরিকদের একটা অংশও সরব হন। স্বাভাবিকভাবে তার আঁচ লাগে কামারপুকুরের উৎসব-আমেজে। আগত ভক্ত থেকে শুরু করে স্থানীয় বিশিষ্টজন, তৃণমূল নেতারা ঠাকুরকে ‘স্বামী’ সম্বোধন ভালোভাবে নেননি। মোদির মন্তব্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগার পাশাপাশি ঠাকুরের ভক্তদের ভাবাবেগে কতটা আঘাত করতে পারে, তা নিয়ে চর্চাও চলে জোরদার।

    তবে, উৎসবে কোনওপ্রকার ছন্দপতন ঘটেনি। প্রতি বছরের মতো এবারও ঠাকুরের জন্মতিথি পালিত হয়েছে ধুমধামের সঙ্গে। সাজানো হয়েছে গোটা মঠ চত্বর। ঠাকুরের মন্দির, মূর্তিও সেজে উঠেছে। উৎসবে সামিল হয়েছেন হাজার হাজার ভক্ত। দেশ-বিদেশ থেকেও এসেছেন অনেকেই। মঠে যাওয়ার রাস্তায় নামে জনস্রোত। ভক্তরা প্রসাদও গ্রহণও করেছেন সুষ্ঠুভাবে। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকত্তরানন্দজি মহারাজ বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা থেকেই উৎসব শুরু হয়েছে। বিশেষ পুজো হয়েছে। ঠাকুরের ঘরের বারান্দায় শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠও হয়। দুপুরে ২৫ হাজারেরও বেশি ভক্তের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আগামী দু’দিন ধরেই নানা অনুষ্ঠান রয়েছে। গরিব ছাত্রছাত্রী, মহিলা ও আদিবাসীদের নানা রকম সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। উৎসব সফল করতে প্রত্যেকেই সহযোগিতা করছেন।’ তবে, প্রধানমন্ত্রীর ‘সম্বোধন বিতর্ক’-এর বিষয়ে মঠ ও মিশনের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কিন্তু, কামারপুকুরের বিশিষ্টজনদের একটা বড় অংশ ঠাকুরকে ‘স্বামী’ সম্বোধন মেনে নিতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা তথা চিকিৎসক বীরেশ্বর বল্লভ বলছিলেন, ‘সন্ন্যাসীদের নামের পূর্বে স্বামী লেখা হয়। আমরা কামারপুকুরবাসী আজন্ম ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে দেবতা হিসেবে পুজো করি। তিনি আমাদের আরাধ্য। তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই শব্দ চয়ন আমাদের আঘাত করেছে। ঠাকুরের অনেক শিষ্যের ভাবাবেগেও আঘাত করতে পারে।’ নিন্দায় সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেছেন, ‘আমরা শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে ঠাকুর হিসেবে প্রতিদিন পুজো করি। কিন্তু তাঁকে স্বামী বলা অবমাননা করার সামিল। প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির লোকেরা বারবার বাংলার মনীষীদের নানা ভাষায় অপমান করে চলেছেন। এসব বাংলার মানুষ তা মেনে নেবে না।’ যদিও বিজেপির পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে আমরা ভালো করে জানি। মোদীজিও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। এখানে তৃণমূলের মাথা না ঘামালেও চলবে।’ ঠাকুরের জন্মতিথি উপলক্ষ্যে কামারপুকুর মেলাতলার মাঠে মেলা বসেছে। চলবে ১৩ দিন। সবার চর্চায় হয়তো থাকবে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট!
  • Link to this news (বর্তমান)