দলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেই অফিস বয়কট বিজেপি প্রধানের, নন্দীগ্রামের পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা, বাড়ছে ক্ষোভ
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন বিজেপির প্রধান লক্ষ্মীকান্ত জানা। এই ঘটনায় বিজেপিতে আলোড়ন পড়েছে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক ডেকে একটা হেস্তনেস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের বিজেপি পরিচালিত নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়। বিডিও-র কাছে নয় সদস্যর সই করা অনাস্থাপ্রস্তাব জমা করা হয়। উল্লেখযোগ্য ওই নয় সদস্যর মধ্যে ছ’জন তৃণমূল, দু’জন বিজেপি এবং একজন সিপিএম সদস্যা আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপিরই দু’জন সদস্যা অনাস্থা প্রস্তাবে সই করায় দল পদক্ষেপ নেয়নি, এই প্রশ্ন তুলে বৃহস্পতিবার থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন প্রধান। এই ঘটনায় বিজেপির খেয়োখেয়ি সামনে এলেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৯টি, তৃণমূল ৬টি এবং সিপিএম ২টি আসনে জয়ী হয়। বিজেপি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করে। লক্ষ্মীকান্ত জানা পঞ্চায়েতের প্রধান হন। কিন্তু, বোর্ড গঠনের এক বছরের মধ্যেই পঞ্চায়েতে নানা অনিয়মের অভিযোগে দলীয় ও বিরোধী সদস্যরা চাপ বাড়াতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে গত এক বছর ধরে কোরামের অভাবে কোনও সভা আয়োজন করতে পারেনি বোর্ড। ফলে উন্নয়নের পরিকল্পনা সহ নানা কাজে সমস্যা হচ্ছিল। নন্দীগ্রাম বাজার এলাকা থেকে জয়ী বিজেপির দুই সদস্যা ও সিপিএমের এক সদস্যর সমর্থন নিয়ে তৃণমূল সদস্যরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে অনাস্থা আনেন।
অনাস্থা চিঠিতে বিজেপির মৌসুমী তেওয়ারি এবং দীপ্তিরানি নায়েক সই করেছেন। এছাড়া, সিপিএমের সদস্যা সামসুন নাহার সই করেছেন। বিজেপির বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থায় দলেরই দুই সদস্যা সই করলেও দল কেন ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকায় তানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান লক্ষ্মীকান্তবাবু। এর হেস্তনেস্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন বলে প্রধান লক্ষ্মীকান্তবাবু সাফ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে দেখা যায়, প্রধানের অফিস ঘরের দরজা বন্ধ। তাঁর ঘনিষ্ঠ সদস্যরাও গরহাজির। এদিন পঞ্চায়েতে পরিষেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে যান।
বুধবার প্রধান লক্ষ্মীকান্তবাবু তাঁর সঙ্গে থাকা দলের সদস্যদের সঙ্গে মিটিং করেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের দুই সদস্যা অনাস্থায় সই করে গর্হিত অপরাধ করেছেন। আমরা বিজেপির প্রতীকে জিতেছি। অথচ, আমাদেরই দুই সদস্যা দলকে অন্ধকারে রেখে আইপ্যাক ও তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। এনিয়ে মণ্ডল নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছিলাম। দলের দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে। আমার দাবি, ওই দুই সদস্যার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে কর্মবিরতি চলবে।
নন্দীগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শঙ্কু নায়েক বলেন, বিজেপি পরিচালিত এই পঞ্চায়েতে গত আড়াই বছরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতির থেকে নজর ঘোরাতে এখন কর্মবিরতির নাটক শুরু করেছেন প্রধান। অবিলম্বে এই কর্মবিরতি না প্রত্যাহার করলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
অনাস্থায় সই করা বিজেপির সদস্যা মৌসুমীদেবীর স্বামী তথা বিজেপি নেতা শম্ভু তেওয়ারি বলেন, পঞ্চায়েত প্রধান প্রত্যেক বুথকে সমানভাবে দেখেন না। চেয়ারে বসার পরই নিজের একটা গ্রুপ বানিয়ে নিজের মতো চলছেন। দল এই দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, আমরা এনিয়ে আলোচনায় বসব। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি এনিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।