দু’ দিন ধরে আন্ত্রিক আতঙ্কের পর ভালভ মেরামতি ঘাটাল পুরসভার, শুক্রবার থেকে পরিস্রুত জল
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল শহরে আন্ত্রিকে আক্রান্ত বহু মানুষ এখনও চিকিৎসাধীন। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আন্ত্রিক আতঙ্ক অব্যাহত। স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ টিম পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। পানীয় জলের পাইপে নোংরা মিশেই এই বিপত্তি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। পুরসভার জলদপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার তপন ঘোষ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পুরসভা পাইপলাইন মেরামতি শুরু করেছে। একই সঙ্গে এদিন পুরো জলাধারটি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলাবতী নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্দিষ্ট জলাধার থেকেই ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা শহরের কোন্নগর এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। কয়েক দিন আগেই ওই জলাধারের মূল পাইপের একটি ভাল্ভ বিকল হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, ওই ভাঙা অংশ দিয়েই ড্রেনের নোংরা জল পানীয় জলের সঙ্গে মেশে। সেই জল পান করেই একের পর এক বাসিন্দার বমি ও পায়খানা হতে শুরু করে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা ওয়ার্ড কমিটির সদস্য লক্ষ্মীকান্ত কর্মকার জানান, প্রায়ই এই রকম সমস্যা হয়। কিন্তু পুরসভাকে জানালেও কোনো লাভ হয় না। তিনি নিজেও ওই জল পান করে অসুস্থ।
বুধবার রাতেও তাঁর বহুবার বমি ও পায়খানা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা স্বরূপ চক্রবর্তী এবং অরূপ চক্রবর্তীরা জানান, কল থেকে জোঁকের মতো পোকা বেরোতে দেখেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা ওই জল পান করতে বাধ্য হন।
পুরসভার উদাসীনতার জন্যই চার-পাঁচ দিন ধরে এতো মানুষকে ভুগতে হল বলে ওই তিনটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ। ঘাটাল আদালতের আইনজীবী তথা শহরের কোন্নগরের বাসিন্দা দেবপ্রসাদ পাঠক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরসভার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তপনবাবু বলেন, পুরসভা গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানার পরই বুধবার থেকে পাইপের বিকল যন্ত্রাংশটি সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসলে যন্ত্রাংশটি ঘাটালে পাওয়া যায়নি বলেই একটু দেরি হচ্ছে। সাময়িক সমস্যা মেটাতে পাম্প থেকে সরাসরি দিনে ৮-৯ ঘণ্টা করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই ওই তিনটি ওয়ার্ডে কারোরই পানীয় জলের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।