• ‘সন্দেহভাজন’ ২ লক্ষ ভোটারের নাম ফের যাচাইয়ের জন্য পাঠাল কমিশন, সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম কাটাতেই ছক? উঠছে প্রশ্ন
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: সন্দেহভাজনের অজুহাতে নদীয়া জেলার প্রায় দু’লক্ষ ভোটারের বৈধতা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোল অবজার্ভার ও মাইক্রো অবজার্ভারদের তরফে ভোটারদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েক লক্ষ ভোটারকে ‘ডাউটফুল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার অ্যাডিশনাল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (এইআরও) সংশ্লিষ্ট ভোটারদের জমা দেওয়া নথিপত্র পুনরায় খতিয়ে দেখবেন।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, এইআরওদের উপর পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই কি এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য? কারণ, পুনরায় যাচাইয়ের তালিকায় থাকা ভোটারদের বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কয়েকজন এইআরওকে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। সেই প্রেক্ষাপটে, যাঁদের বৈধ ভোটার হিসেবে এইআরওরা চিহ্নিত করেছিলেন, তাঁদের নামই পুনরায় যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছেই পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে এইআরওদের মধ্যে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।

    জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত নথি যাচাই করেই ভোটারদের নাম কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নথি ফেরত আসায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথিপত্র পুনরায় পরীক্ষা করার দায়িত্ব পড়েছে এইআরওদের উপর।

    কমিশন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলাজুড়ে এক লক্ষ তিরিশ হাজার ভোটারের নাম পুনরায় যাচাইয়ের জন্য নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার এক দিনেই আরও ৭০ হাজার নাম পাঠানো হয়েছে। যা বেনজির বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। দু’লক্ষ ভোটারের মধ্যে রোল অবজার্ভারের তরফে ৫০ হাজার এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের তরফে দেড় লক্ষ নাম পুনর্যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই তালিকায় সিংহভাগই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ভোটার।

    কিন্তু প্রশ্ন হল, নদীয়া জেলার একজন রোল অবজার্ভার এবং প্রায় তিনশো জন মাইক্রো অবজার্ভারের পক্ষে জেলার লক্ষাধিক ভোটারের নথি যাচাই করে অবজেকশন তোলা বাস্তবে কি সম্ভব? কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার আনম্যাপড এবং ৫ লক্ষ ২২ হাজার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। আনম্যাপড ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশন নির্ধারিত ১৩ টি নথি দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে দেখা যাচ্ছে, একটা বড়ো অংশের ভোটার সেই নথি দেখাতে পারছেন না। অন্যদিকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারদের ক্ষেত্রে কমিশন নির্ধারিত কোনও নথি দেখানোর নির্দেশিকা আসেনি। স্বাভাবিকভাবেই লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ভোটাররা যে নথিপত্র জমা করছিলেন, তার ভিত্তিতেই বৈধতার ‘শংসাপত্র’ দিয়ে এইআরও’র কমিশনের পোর্টালে আপলোড করেছিলেন।

    কিন্তু ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশনের ‘তুঘলকি’ আচরণ বাড়ছে। সম্প্রতি, সাতজন এইআরও’কে সাসপেন্ড করার মাধ্যমে রাজ্যের বাকি এইআরওদের মধ্যে পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়ার পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা নথির ভিত্তিতে কোনো ভোটারকে বৈধতার শংসাপত্র দিয়েছিলেন, সেই নাম কমিশনের তরফ থেকে পুনরায় পাঠানো হলে এইআরও’রা নতুনভাবে কী সিদ্ধান্ত নেন সেই নিয়েও সংশয় দেখা গিয়েছে।

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, কমিশন প্রথম থেকেই তুঘলকি আচরণ করছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে কমিশনের তরফ থেকে। এই নিয়ে আমাদের নেত্রী ও আমাদের দল সরব হয়েছে। আমরা বৈধ ভোটারদের পাশে রয়েছি।

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, কমিশন তাঁর মতো কাজ করছে।স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই কমিশনের আসল উদ্দেশ্য।
  • Link to this news (বর্তমান)