• নবদ্বীপ ধাম স্টেশন রোড এলাকায় নেই পর্যাপ্ত আলো
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ধাম স্টেশন রোডের রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো থাকলেও তা বড়োই ক্ষীণ। বিশেষ করে দখলদারি উচ্ছেদের পর নবদ্বীপ ধাম স্টেশন রোডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কার্যত আঁধার নেমে এসেছে। সন্ধ্যার পর অন্ধকারের মধ্যে যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়ছেন আসন্ন দোল উৎসব উপলক্ষে আগত ভক্ত-পুণ্যার্থী থেকে পর্যটকরা। উচ্ছেদের আগে দু’ধারের দোকানের আলোয় স্টেশন রোড আলোকিত হয়ে থাকত। গত দু’বছর ধরে একাধিকবার রেলের জায়গা থেকে দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে এখন ওই রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো থাকে না। রাত বাড়তেই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ট্রেনযাত্রীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে স্টেশন রোড এলাকায় প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থা করুক রেল।

    নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের পূর্ব রেলের নবদ্বীপের ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, এই মুহূর্তে স্টেশন চত্বরে আলো লাগানোর কাজ চলছে। দু’-একদিনের মধ্যেই ওই রাস্তায় আলো লাগানো হবে।

    নবদ্বীপ ধাম স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তা হয়ে ব্যাদড়াপাড়া গুমটি পর্যন্ত বরাবরই পথবাতির যথেষ্ট অভাব ছিল। স্টেশন রোডে রেলের জায়গা থেকে দোকান ও বসতবাড়ি উচ্ছেদের পর অধিকাংশ এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। সম্প্রতি রেলের তরফে স্টেশনের মূল গেট থেকে কিছুটা দূরে একটি হাইমাস্ট লাইট বসানো হয়েছে। তাতে ওই চত্বরের রাস্তা কিছুটা আলোকিত থাকলেও বাকি দীর্ঘ পথে আলোর অভাব রয়েছে। স্টেশন রোডে হাতেগোনা কিছু বিদ্যুৎ পোলে অনেক উঁচুতে আলো জ্বললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। প্রতিদিন হাওড়া-কাটোয়া ও কাটোয়া-ব্যান্ডেল শাখায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত আপ-ডাউনে ১৯ জোড়া লোকাল ট্রেন চলে। প্রতিদিন আপে ও ডাউনে ১০ জোড়া এক্সপ্রেস ট্রেনও চলে। এছাড়া, রয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এবং একাধিক সাপ্তাহিক ট্রেন। প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে নামেন। অধিকাংশই এই রাস্তা ব্যবহার করেন। হাওড়া-কাটোয়া সুবারবান প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক সৌমেন অধিকারী বলেন, মূল গেটের কাছে সম্প্রতি একটি হাইমাস্ট লাইট থাকলেও বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সমস্ত দোকান তুলে দেওয়ায় গোটা স্টেশন রোড অন্ধকারে ডুবে থাকছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার ভীষণ অভাব। স্টেশন রোডে দ্রুত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আমরা রেলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি করেছিলাম। সরকারপাড়ার বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, ব্যবসার কাজে প্রতিদিন কলকাতায় যেতে হয়। অনেক সময় বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন ওই রাস্তা দিয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করি। নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ডের সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, আগে দোকানের আলো অনেকটা রাস্তা আলোকিত করে রাখত। রেল দোকান উচ্ছেদ করেছে। এবার ওরা এই রাস্তায় জরুরি ভিত্তিতে আলোর ব্যবস্থা করে দিক। আমরা চাই, রেলের তরফে দ্রুত রাস্তায় একটু জোরালো আলোর ব্যবস্থা করা হোক।
  • Link to this news (বর্তমান)