বিমানে চাপিয়ে মণিপুর থেকে মাদকের কাঁচামাল ঢুকছে রাজ্যে: এসপি মালদহ
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! মাদকের কারবার নির্মূল করতে সড়ক, রেল, জলপথে কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। এবার পন্থা বদল কারবারিদের। আকাশপথে মণিপুর থেকে মাদক তৈরির কাঁচামাল ঢুকছে এরাজ্যে। মাদক মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ছয় যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কয়েকস্তরীয় নিরাপত্তাবলয়ে থাকা বিমানবন্দর দিয়ে মাদক পাচারের ঘটনা সামনে আসায় বিস্মিত পুলিসকর্তারা। বিমানবন্দরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে ইম্ফল থেকে আকাশপথে মাদকের কাঁচামাল কলকাতায় আসছিল, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে ছানবিন।
মালদহের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বলেন, আগে ট্রেন, বাস, ছোট গাড়ি এমনকি জলপথেও মাদকের কাঁচামাল সরবরাহ করতে এসে অনেকে ধরা পড়েছে। তবে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিমানে এই প্রথম মাদকের কাঁচামাল আনা-নেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ধৃতরা স্বীকার করেছে তারা ব্রাউন সুগার তৈরির কাঁচামাল মণিপুর থেকে প্লেনে করে আনছিল। ইম্ফল থেকে সেসব দমদম বিমানবন্দরে নামাত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,পাচারকারীরা জামাকাপড়ের ব্যাগে ভরে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মাদকের কাঁচামাল (পোস্তর আঠা)নিয়ে আসত। ধৃতদের কাছ থেকে কয়েকটি জারও উদ্ধার হয়েছিল। সেগুলির সিল খুললে ভিতরে মেলে মাদকের কাঁচামাল। ধৃতরা জেরায় আরও স্বীকার করেছে, মণিপুর থেকে বেশকিছু লোক এসে কখনো বিমানবন্দরের বাইরে, আবার নিউটাউনের আবাসনের কাছাকাছি এসে তাদের কাঁচামাল সরবরাহ করেছে।পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করি। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। ধৃতদের বিমানের টিকিট এবং বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ৩১ জানুয়ারি মালদহ পুলিশ নিউটাউনের একটি আবাসন থেকে ইসমাইল সেখ ও সাহিল আখতার ওরফে ডালিমকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও চার যুবক বানারুল সেখ ওরফে সুরজ, সোরাভ আলি ওরফে হাজিকুর, মিজানুর রহমান ওরফে মামুন ও আব্দুল শুভাম ওরফে খিচুর খোঁজ পায়। পুলিশ তাদের পিছু নিলে চার যুবক গা ঢাকা দিতে প্রথমে হিমাচলপ্রদেশ, তারপর গুরুগ্রাম এবং সেখান থেকে বিমানে চেপে গোয়ায় পৌঁছয়। গোয়া পুলিশের সহায়তায় সেখানকার বিমানবন্দরে চারজনকে গ্রেপ্তার করে মালদহ পুলিশ। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হয় মালদহে। ধৃতদের মালদহ আদালতে পেশ করে সাতদিনের হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ধৃতরা কালিয়াচকের বাসিন্দা হলেও কলকাতায় গিয়ে নিউটাউনের আবাসনে থাকত। নামীদামি নাইট ক্লাবে একরাতে লাখ লাখ টাকা ওড়ানো, নামী সংস্থার পাঁচ হাজারের জুতো,দশ হাজারের টি-শার্ট, দামি গাড়িতে চড়াই ছিল তাদের শখ। এই বিলাসবহুল জীবনযাপনের খরচ জোগাত মাদকের কারবার।