শিলিগুড়িকে ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর’ হিসাবে ঘোষণা করার দাবি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ তৃণমূলের, পালটা জবাব বিজেপির
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের ‘মিনি ইন্ডিয়া’ শিলিগুড়িকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘোষণার দাবি পুরসভার। তারা এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। একই সঙ্গে তারা উত্তরবঙ্গের ‘বাণিজ্য নগরীকে’ বৈচিত্রময় শহরে পরিণত করতে চাইছে। বিধানসভা ভোটের মুখে এনিয়ে সরব হয়েছে জোড়াফুল শিবির। তাদের তোপ, গত বিধানসভা ভোটে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটলুট করলেও এই শহরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। পালটা পদ্মের বক্তব্য, ওই দাবি তুলে নিজের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে চাইছে পুরসভা। এই শহরে ৬০ হাজার কোটি টাকার কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উভয়পক্ষের এমন বাকযুদ্ধ ঘিরে ভোটের ময়দান সরগরম।
শিলিগুড়ি শহরের পাশেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও নেপাল। সহজেই এখান থেকে ভুটান পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এখান থেকে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, সিকিম ও অসমের দূরত্বও খুব বেশি নয়। এমন ভৌগোলিক অবস্থানের জেরেই ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত। এখানে বাঙালি, নেপালি, বিহারি, পাঞ্জাবি, মাড়োয়ারি, মারাঠি, মণিপুরি, অসমিয়া সহ বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ বসবাস করেন। ইতিমধ্যে চিকেন নেককে টার্গেট করে হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশের কিছু সংগঠন। এমন প্রেক্ষাপটে এই শহরকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহরের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ফের তোলা হয়েছে। পুরসভার বাজেটে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে।
মেয়র গৌতম দেব বলেন, ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে শিলিগুড়িকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসাবে ঘোষণা করার দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানানো হয়েছিল। তা এখনও পূরণ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেগ জড়িত দার্জিলিং মেলের টার্মিনেশন পয়েন্ট এনজেপির পরিবর্তে হলদিবাড়ি স্টেশন করা হয়েছে। তা পুনরায় এনজেপি স্টেশনে করার দাবি জানানো হয়েছিল। তা এখনও পূরণ হয়নি। এনজেপি-বাগডোগরা রেলবাস পরিষেবা পুনরায় চালুর দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে হেরিটেজ তকমা দিতে পারেনি কেন্দ্র। যতদিন পর্যন্ত দাবিগুলি পূরণ না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা দাবিগুলি করতেই থাকব। বিশ্বের দরবারে শিলিগুড়িকে বৈচিত্রময় শহর হিসাবে তুলে ধরতে চাই।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির দখলে। এখানকার সংসদ সদস্যও তাদের। পুরসভার তোলা দাবিকে এবার বিধানসভা ভোটের ময়দানে ইস্যু করতে চাইছে তৃণমূল। কাল, শনিবার থেকে তারা পাড়ায় পাড়ায় সভা করবে। তাতে সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলি তুলে ধরবে। এই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর কুন্তল রায় বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে উন্নয়নের ফানুস উড়িয়ে ভোটলুট করেছে বিজেপি। তারা এই শহরকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসাবে ঘোষণা করা এবং উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দেওয়া কিছুই করেনি। এবার ভোটে ওরা এর জবাব পাবে।
পালটা পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, এটা রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। তা হলেও পুরকর্তৃপক্ষ এই শহরকে গুরুত্ব দিতে পারছে না। বাজেটে প্রস্তাবিত অর্থের অর্ধেকই খরচ করতে পারছে না। এখন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাস্তা, বিমানবন্দর সহ পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্র এখানে ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে।