ভুয়ো বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম সাহেবগঞ্জে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১
বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, দিনহাটা: বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ওমর ফারুক ব্যাপারীকে। অভিযোগ, অন্য ব্যক্তিকে বাবা পরিচয় দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি আছিরন বেওয়া নামে এক মহিলা সাহেবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাঁর মৃত স্বামী খাইরুল আলম ব্যাপারীর নাম ‘পিতা’ হিসাবে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলেছিলেন ওমর ফারুক ব্যাপারী। এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির সময় নথিপত্র যাচাই করতে গিয়েই বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এরপরই তিনি ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে থানায় মামলা দায়ের করেন।
নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিস ওমরকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে বুধবার আদালতে তোলা হলে তার চার দিনের পুলিশ হেপাজত হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ১০ বছর আগে ভারতে আসার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর সদস্যের পোশাক পরা তার ছবি একাধিকবার ভাইরাল হয়। এদেশে বসবাস করে একাধিক বিয়ে রয়েছে। অস্ত্র সহ বিভিন্ন মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে নানা সময়ে। একসময়ের তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেলে নির্দল হিসাবে লড়ে। তারপর থেকে তৃণমূলের কোনো সভায় আর দেখা যায়নি। পঞ্চায়েত ভোটের সময় তৃণমূলের প্রার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। নির্বাচনের পরাজিত হয় সে। এদিকে, খসড়া ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে।
দিনহাটা মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী মৃগাঙ্ক সেনগুপ্ত জানান, অভিযোগকারিণী স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, তাঁর মৃত স্বামীর পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। ঘটনার নথি ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ওমর ফারুক ব্যাপারীকে চার দিনের পুলিস হেপাজতের নির্দেশ দেয়।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারির ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন ওমর। তার বক্তব্য, একসময় তৃণমূল করতাম, এখন করি না। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল হিসেবে পঞ্চায়েত সমিতির আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের এক প্রার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং সেই ঘটনার জেরেই ফাঁসানো হয়েছে।
ধৃতের আইনজীবী মাসুদ হাসান বলেন, এসআইআরের খসড়া তালিকায় ওমর ফারুক ব্যাপারীর নাম ইতিমধ্যেই রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই তাকে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা আইনসঙ্গত নয়।
অন্যদিকে, তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই ওমর ফারুকের। আইন আইনের পথেই চলবে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, তৃণমূল নেতাদের যোগের কারণে ভারতে এসে ভোটের ফটো, আধার কার্ড সহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট বানিয়েছে ফারুক।