সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বিজেপি একাধিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাজবংশী মুখকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে এলাকায় ‘হৃদয় বিজেপি’ লেখা ব্যানারে একাধিক পোস্টার পড়েছে। যা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চাপে পড়েছেন বর্তমান বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি এই পোস্টার কাণ্ডকে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বলেছেন।
গতবার তৃণমূলের মন্ত্রী গৌতম দেবকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন শিখাদেবী। কিন্তু গত পাঁচ বছরের কাজ ও জনসংযোগ নিয়ে বিরোধীদের প্রচারে চাপে রয়েছেন তিনি ও তাঁর দল। এলাকার মানুষের মধ্যেও বিজেপি বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে অনেক জায়গায় ক্ষোভ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা থাকায় গত কয়েক মাস ধরে বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। যদিও এসবকে প্রকাশ্যে গুরুত্ব দেননি শিখা চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু রাজবংশী প্রার্থী চেয়ে ওই পোস্টার পড়ায় আর তিনি বসে থাকার সাহস দেখাননি। তাই সর্বক্ষণের কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে যাওয়া শুরু করেছেন। দলের প্রতীক দিয়ে ভোটের দেওয়ালও লিখছেন তিনি।
শিখাদেবী পোস্টার কাণ্ডকে তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বললেও বিজেপির স্থানীয় এক প্রবীণ নেতা বলেন, এবার আমাদের দলে টিকিটের দাবিদার অনেক। রাজবংশী প্রার্থী হিসাবে এলাকার প্রবীণ বিজেপি নেতা সুপেন রায় এভাবে তাঁর দাবিকে জোরালো করার চেষ্টা করতে পারেন। বর্তমানে তিনি ডাবগ্রাম-২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। যদিও সুপেনবাবু বলেন, ওই পোস্টারের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। দলই ঠিক করবে কে প্রার্থী হবেন। আমাদের চাওয়া বা পছন্দের কোনো গুরুত্ব নেই।
প্রার্থী হওয়া নিয়ে শিখাদেবীও একই কথা বলেছেন। কিন্তু দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে হঠাৎ করে তাঁর জনসংযোগ ও দেওয়াল লিখন কর্মসূচি নিয়ে। পদ্ম শিবিরের অনেকেই মনে করছেন, টিকিটের লড়াই কঠিন বুঝতে পেরেই শিখাদেবী এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। যা দলের উপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির কৌশল। যদিও শিখাদেবী বলেন, দলের অনুগত সৈনিক হিসাবে এই কাজ করছি। তা সবাই করতে পারেন। টিকিট পাওয়ার জন্য করছি না।
এদিকে পোস্টার কাণ্ডে বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে তৃণমূল। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, বিজেপির কাছ থেকে মানুষ সরে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন নিয়ে তৃণমূলের প্রচারে মানুষের ব্যাপক ভিড়। যা দেখে বিজেপি বুঝে গিয়েছে এবার হার নিশ্চিত। তাই মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে দলের কোন্দল ঢাকতে চাইছেন বিধায়ক। কিন্তু বিজেপির নেতা-কর্মীরাও জানেন প্রার্থী হওয়ার জন্য তাঁদের দলে কোন্দল চলছে।