সুব্রত ধর শিলিগুড়ি: একদিকে এসআইআর। আরএকদিকে অপ্রাপ্তির কেন্দ্রীয় বাজেট। দুই ফলায় ‘বিদ্ধ’ পদ্ম শিবির। তারা এর মোকাবিলায় বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা ওরফে বিপি বজগাঈ দলত্যাগ করায় পাহাড় ও সমতলে আরও চাপে পড়েছে বিজেপি। তারা অবশ্য বিষয়টি পাত্তা দিতে নারাজ। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, সবে খেলা শুরু। এবার পদ্মে ধস নামবে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পাহাড় ও সমতলের রাজনীতি সরগরম।
দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন বিজেপির কব্জায়। জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রই তাদের দখলে। এদিকে এসআইআরে প্রচুর মানুষের কাছে নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। এনিয়ে ভোটারদের একাংশ বিজেপির উপর ক্ষুব্ধ। এমন প্রেক্ষাপটে কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে। তাতে পাহাড় ও সমতলের জন্য কিছুই নেই। চা, কমলা, আনারস, পর্যটন শিল্পের জন্য কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। এনিয়েও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হয় বিভিন্ন মহল।এই অবস্থায় ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামে পদ্ম শিবির। তাদের নেতা-নেত্রীরা জনসংযোগ অভিযানে ঝাঁপান। এমন প্রেক্ষাপটে ফের ধাক্কা খেল পদ্ম শিবির। এবার তাদের কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক দলত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে শামিল হয়েছেন। এতে পাহাড়ে শক্তি বাড়ল তৃণমূলের। এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের বক্তব্য, এসআইআর, কেন্দ্রীয় বাজেট পাহাড় ও সমতলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়া, গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করেনি। পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান নিয়েও সংসদে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এসব কারণেই পাহাড়ে পদ্মের প্রতি মোহ ভাঙছে মানুষের।
বিজেপি অবশ্য ওই বক্তব্য মানতে নারাজ। বিজেপির দার্জিলিং পার্বত্য সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি সঞ্জীব লামা বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর থেকে বিষ্ণু কার্শিয়াংয়ের জন্য কিছুই করেননি। তিনি পাহাড়ের ছায়াই মারাননি। গত লোকসভা ভোটে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে নোটার চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন। কাজেই ওই মিরজাফর দলত্যাগ করায় বিজেপির মঙ্গল হয়েছে। এদিকে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে ময়দানে তেড়েফুঁড়ে নামছে জোড়াফুল শিবির। তারা বুথে দলীয় ভিত চাঙা করছে। সেই সঙ্গে তারা বিজেপির বিক্ষুব্ধ ও বসে থাকাদের দলে টানতে তৎপর হয়েছে। কয়েকদিন আগে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে মাটিগাড়ার এক বিজেপি নেতাকে দেখা গিয়েছে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের (সমতল) নেতা বেদব্রত দত্ত বলেন, মানুষের কল্যাণেই যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ সামাজিক প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা দেশের অন্য কেউ করতে পারেননি। এটা সকলেই বুঝতে পেরেছেন। এতেই খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপির একাংশ যোগাযোগ শুরু করেছেন। শীঘ্রই ওই দলে ধস নামবে বলেই আশা করছি। যদিও বিজেপির দাবি, এবার ভোটে দল ভাঙানোর খেলার জবাব পাবে তৃণমূল।