• লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে জলপাইগুড়ির ইতিহাস, ঘোষণা এসজেডিএ’র চেয়ারম্যানের
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে জলপাইগুড়ির ইতিহাস। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার। পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক কনভেনশনে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি দিঘির সৌন্দর্যায়ণের কাজ চলছে। ওখানে যে দু’টি প্রাচীন মন্দির রয়েছে, সেগুলিরও সংস্কার করা হচ্ছে। শীঘ্রই রাজবাড়ি দিঘিতে আমরা লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালু করব। এর মাধ্যমে জলপাইগুড়ির গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হবে। পুরসভাকে সঙ্গে নিয়ে এই শহরের হেরিটেজ সংরক্ষণে শীঘ্রই রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের কাছে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘জলপাইগুড়ি আমার কাছে খুবই আবেগের। জনসংখ্যার চাপে শহর বাড়ছে। এজন্য নয়া পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন। আমরা এসজেডিএ’র পক্ষ থেকে ভিশন প্ল্যান বানাচ্ছি। এটা হয়ে গেলেই পরিকাঠামো তৈরির কাজে হাত দেওয়া হবে। সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হবে জলপাইগুড়ির উন্নয়নে।’

    নাগরিক কনভেনশনে পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘১৫৭ বছরের জলপাইগুড়ি। আর পুরসভার বয়স ১৪১ বছর। এটি ডিভিশনাল শহর। ফলে এর বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা চাই, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক। পর্যটনে গুরুত্ব বাড়ুক। চাঙ্গা হোক অর্থনীতি।’
    ১৯৩৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়ি শহরে পা রেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর স্মৃতিতে জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রয়াস হলের নামকরণ করা হল ‘নেতাজি সুভাষ প্রয়াস অডিটোরিয়াম’। এদিন সেটির উদ্বোধন হয়। চেয়ারম্যান বলেন, এখন যেটি প্রয়াস হল, আগে সেটি পাওয়ার হাউস ছিল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ওই পাওয়ার হাউসের উদ্বোধন করেছিলেন। সেকারণে নেতাজির নামে প্রয়াস হলের নামকরণ করা হল। জলপাইগুড়ির মাটিতে পা রেখে নেতাজি যে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ‘ইংরেজ তুমি ভারত ছাড়ো’র ডাক দিয়েছিলেন, সেটাও মনে করিয়ে দেন পুর চেয়ারম্যান।

    জলপাইগুড়ি শহরের উন্নয়নে মতামত জানাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেভেলপমেন্ট বক্স বসানো হবে বলে এদিন ঘোষণা করেন পুরপ্রধান। বলেন, পয়লা মার্চ সবক’টি ওয়ার্ডে ওই বক্স বসবে। ২১ বছর পর জলপাইগুড়িতে নাগরিক কনভেনশন হল। এদিন যাঁরা কনভেনশনে যোগ দিয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারলেন না, তাঁরা ওই বাক্সে লিখিতভাবে শহরের উন্নয়নে পরামর্শ দিতে পারবেন। রাজনৈতিক রং না দেখে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক কমিটি গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন পুরপ্রধান। বলেন, উন্নয়নের পথে হেঁটে জলপাইগুড়ি শহরের নয়া মানচিত্র তৈরি করতে চাই আমরা। উন্নত নাগরিক পরিষেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ। কোনো মানুষকে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শহরের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি ‘অম্রুত’ প্রকল্পের জল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে এদিন ঘোষণা করেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান। শহরের যানজট, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পার্কিং, নিকাশির অব্যবস্থা, জলাশয় ভরাট, করলা নদীর গতিপথ আটকে দেওয়া সহ নানা বিষয় কনভেনশনে তুলে ধরে পুরসভার হস্তক্ষেপ দাবি করেন বাসিন্দারা।
  • Link to this news (বর্তমান)