নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মাত্র তিন বছর। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক। লটারি বা গুপ্তধন পেয়ে নয়, আকাশপথে মাদকের কাঁচামাল আনার কারবার করে এই বিপুল অর্থ কামিয়েছে মূল পান্ডা ইসমাইল সেখ। তদন্ত যেদিকে এগচ্ছে, তাতে এই চক্রের জাল অনেক গভীরে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এমনকী আন্তর্জাতিক যোগও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একটা সময় এই ইসমাইলই সংসারের জোয়াল টানতে মাথায় করে ইট বহন করেছে। অথচ সেই কিনা কলকাতার এক নাইট ক্লাবে গিয়ে এক রাতে উড়িয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা! তারপরেই অবশ্য সে নজরে পড়ে যায় ক্লাবগুলির ম্যানেজারদের। যাদের সঙ্গে ইসমাইলের ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। ইসমাইলের এই রকেট গতিতে উত্থান দেখে তাজ্জব তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এপ্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দরিদ্র পরিবারের ছেলে ইসমাইল হঠাৎই কলকাতায় গিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে শুরু করে। তার একাধিক বান্ধবীও ছিল। ইসমাইলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
এই কারবারে যুক্ত বেশ কয়েকজনকে কলকাতা ও গোয়া থেকে পাকড়াও করেছে মালদহ জেলা পুলিশ। তাদের জেরা করেই একের পর এক রোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে,কলকাতায় একসঙ্গে ১৩ জন বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ইসমাইলের। প্রতিদিন নাইট ক্লাবে গিয়ে সন্ধ্যায় সেই বান্ধবীদের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা ওড়াত সে। বিদেশি ঘড়ি, ব্যাগ, জামা কাপড়, দামি মোবাইল ফোন সহ তাদের নিয়মিত দামি দামি উপহার দিতে কার্পণ্য করেনি ইসমাইল। প্রতিদিন রাতে বান্ধবীদের নিয়ে কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউনের বিভিন্ন নাইট ক্লাবে নিয়ে গিয়ে চলত দেদার খানাপিনা। ফলে ইসমাইলের ওই ১৩ জন বান্ধবীও এবার তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে। এছাড়াও ইসমাইলের সঙ্গে যে সমস্ত মহিলার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, তাদের খোঁজেও এবার জাল বিছানো হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। আন্তঃরাজ্য মাদক কারবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগ আছে কিনা, বান্ধবীদের ব্যবহার করে হানিট্র্যাপ বা তাদের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করা, কাঁচামাল আনা নেওয়া করা হত কি না, চলছে সেসব খতিয়ে দেখে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কালিয়াচকের হতদরিদ্র পরিবারের সাদামাটা ছেলে ইসমাইলকে বেশকিছু নাইট ক্লাবের ম্যানেজার ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। কারণ কোনো নাইট ক্লাবে এক রাতে কয়েক লক্ষ টাকা ওড়ানোর দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। তদন্তকারীদের কথায়, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাইট ক্লাবের কয়েকজন ম্যানেজার অনেক তথ্য দিয়েছেন। ওই ম্যানেজারদের কথায়, অনেকেই এসে প্রচুর খরচ করেন, তবে এক রাতে এত টাকা ওড়াতে তাঁরা কাউকেই দেখেন নি।