• বিধানচন্দ্র রায় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জমির মিউটেশন ঘিরে চাপানউতোর
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ঐতিহ্যবাহী বিধানচন্দ্র রায় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জমি কি রাতারাতি মিউটেশন হয়েছে? এই প্রশ্নে শোরগোল শুরু হয়েছে পানিহাটিতে। বিজেপির দাবি, চলতি মাসে পানিহাটির বিধায়ক যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই জমির মিউটেশন নিজের ও পরিবারের নামে করিয়েছেন। যদিও বিধায়ক এই অভিযোগ হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। কাগজ দেখিয়ে তাঁর দাবি, বাম জমানায় জমি রেজিস্ট্রি হয়েছিল সোসাইটির নামে। তিনবছর আগে তাঁর মিউটেশন হয়েছে। কুৎসার জবাব মানুষ ইভিএমে দেবে। এই বিতর্কের আবহে পুরসভার চেয়ারম্যান জমির চরিত্র ও মিউটেশনের বিষয়ে জানতে চেয়ে এগজিকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দেওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।

    পানিহাটি পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জমির উপর দোতলা বিধানচন্দ্র রায় প্রতিবন্ধী বিদ্যায়তন ও গ্রন্থাগার ছিল। বাম আমলে সুরজিৎ সেনের পরিবার স্কুলের নামে প্রায় দুই বিঘা জমি দান করেন। বাম জমানা থেকে ওই বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ওই স্কুলের উন্নয়নে বহু বার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি অনুদানও এসেছিল।

    সম্প্রতি, ওই স্কুলের জমি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। স্কুলের জমি প্রসঙ্গে পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কার নির্দেশে কার নামে ওই জমির মিউটেশন হল ও জমির চরিত্র কি সেটা কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে জানতে চেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    স্থানীয় বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে বিধায়কের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। তিনি বলেন, স্কুলের জমি খাস-জমি বলে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত। তারপরও কয়েক বছর আগে স্কুলের জমি নিজের এবং পরিজনদের নামে রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন বিধায়ক। কিন্তু সরকারি বাধা থাকায় এতদিন মিউটেশন করতে পারেননি। আমি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক পুরসভায় এসে জমির মিউটেশন করিয়েছেন।

    নির্মল ঘোষ এই অভিযোগ হেসে উড়িয়ে দেন। নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, স্কুল পরিচালনার জন্য সোসাইটি রয়েছে। ২০০৫ সালে ব্যক্তি মালিকরা সোসাইটির নামে জমি রেজিস্ট্রি করেছে। ওই সময় থেকে আমি সোসাইটির সভাপতি। দিল্লি থেকে দু’বছরের কোর্স করে আমার মেয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী রেজিস্ট্রিতে নাম রয়েছে। সরকারি জমি কেউ বিক্রি বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারও করতে পারবে না। ওই জমি ২০২৩ সালে মিউটেশন হয়েছে। ওখানে জমি দাতাদেরও কিছু পরিমাণ জায়গা রয়েছে। সেই পরিমাণ নথিবদ্ধ করা ও জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি পুরসভায় অনলাইনে আবেদন করা হয়েছিল। অকারণে কুৎসা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)