• সোনার মূর্তি বিক্রির ফাঁদে ১১ লক্ষ খোয়ালেন ব্যবসায়ী, ধৃত অভিযুক্ত
    বর্তমান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: ‘মাটির নীচে থেকে উদ্ধার হয়েছে সোনার মূর্তি। কম করে সেটি ১০০ বছরের পুরনো।’ ওই মূর্তি বিক্রি করবে বলে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল এক ব্যক্তি। তা নজর টানে ব্যবসায়ী ধরমবীর সাউয়ের। তাঁর বাড়ি কসবায়। কৌতূহলের বশেই তিনি যোগাযোগ করেন ওই ব্যক্তির সঙ্গে। তার থেকে ওই সোনার মূর্তি কিনে ১১ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন ধরমবীর। মূর্তিগুলি সোনার দোকানে নিয়ে গিয়ে যাচাই করতে গেলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। এরপর বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নেমে পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণমোহন স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফারুক বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি বারুইপুরের চাঁদখালিতে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি গণেশ ও লক্ষ্মীমূর্তি, একটি পুরানো দিনের ঘণ্টা ও নগদ ২ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ধরমবীর সাউ আদতে হোটেল ব্যবসায়ী। কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে ফারুকের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। ফেসবুকে ফারুক ১০০ বছরের পুরানো সোনার মূর্তি বিক্রি করার প্রলোভন দিলে তাতে পা দেন ধরমবীর। প্রথমে সোনার মূর্তি যাচাই করার জন্য ফারুককে ডাকেন তিনি। ফারুক প্রথমে মূর্তি নিয়ে এলে তিনি এক স্বর্ণ বিপণিতে নিয়ে গিয়ে যাচাই করেন। পরীক্ষায় সোনার অস্তিত্ব মেলায় ফারুকের উপর আস্থা বাড়ে তাঁর। এরপর তাকে ধাপে ধাপে মোট ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। পুরো টাকা হাতে পাওয়ার পর ফারুক একসঙ্গে গণেশ ও লক্ষ্মীর মূর্তি এবং একটি ঘণ্টা তাঁকে দিয়ে যায়। দিনকয়েক বাদে সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যবসায়ী দু’টি মূর্তি ও ঘণ্টা নিয়ে ফের যাচাই করতে যান সোনার দোকানে। তখনই প্রমাণ হয়, সেগুলি সোনার নয়। মাথায় বাজ পড়ে তাঁর। প্রথমে সোনার আসল মূর্তি দেখালেও বিক্রির সময় সে নকল মূর্তি বেচে দিয়ে চলে গিয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ধরমবীর সোজা ছোটেন বারুইপুর থানায়। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ তদন্তে নামে।

    পুলিশের পরামর্শেই ধরমবীর ওই প্রতারকের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন এবং ওই ধরনের আরও কিছু মূর্তি কিনতে চান বলে জানান। প্রতারক পুলিশের এই ফাঁদ বুঝতে পারেনি। ধরমবীর তাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণমোহন স্টেশনের কাছে আসতে। পুলিশের টিম সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। ফারুক আসামাত্র তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। ধরমবীর বলেন, এইভাবে প্রতারিত হব, ভাবিনি। ১০০ বছরের পুরানো সোনার মূর্তি শুনে লোভে পড়ে আকৃষ্ট হয়েছিলাম। পুলিশ তৎপরতায় অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের ফাঁদে পা না দিতে মানুষকে সাবধান করছে পুলিশ। তবুও তাতে কর্ণপাত করছে না নাগরিকদের একাংশ। অতি লোভেই তাঁতি নষ্ট হচ্ছে তাঁদের। এদিকে, এই ঘটনায় কোনও বড়ো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, বাকি টাকা উদ্ধারেরও চেষ্টা চালাচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)