নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কেউ যাচ্ছেন বাপের বাড়ি। কেউ বা আত্মীয়ের দ্বারস্থ। যাঁদের অন্যত্র যাওয়ার অপশন নেই, তাঁদের কেউ কেউ আবার হোটেল ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ডায়ারিয়া নিয়ে উদ্বেগের জেরেই অস্থায়ীভাবে একাধিক আবাসিক ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিউটাউনে সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনের ই-ব্লকে। তবে, বেশিরভাগ আবাসিকই রয়েছেন সেখানে। তাঁদের সমস্যাও দূর হয়নি। আবাসিকদের কথায়, বৃহস্পতিবার থেকে আবাসনে পুনরায় জল সরবরাহ চালু হয়েছে। কিন্তু, ওই জল শুধুমাত্র শৌচালয়ে ব্যবহারের জন্যই সরবরাহ করা হচ্ছে। ট্যাংকে করে পানীয় জল আনা হচ্ছে। সেই জল সংগ্রহের জন্য উপর থেকে নীচে নামতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বয়স্করা। অনেকে জল কিনেও খাচ্ছেন।
গত সোমবার সুখবৃষ্টি আবাসনের ‘ই-ব্লকে’ ডায়ারিয়ার অভিযোগ সামনে আসে। মঙ্গলবার থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। চালু হয় মেডিকেল ক্যাম্প। বিকল্প হিসেবে একাধিক ট্যাংক পাঠিয়ে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়। আবাসনের ভিতরে জলের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছে। যে কারণে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার এবং ওভারহেড ট্যাংক সাফাই করা হচ্ছে। সংক্রমণের উৎসের খোঁজ চলছে।
জানা গিয়েছে, পানীয় জল ট্যাংকে করে নিয়ে এসে দেওয়া হচ্ছে বটে, তবে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আবাসনে থাকা মুশকিল। তাই বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সাপুরজি ছেড়ে অসমে বাপের বাড়ি গিয়েছেন নেহা গুপ্তা। তিনি জানিয়ে গিয়েছেন, পানীয় জলের পরিষেবা স্বাভাবিক হলে, উৎস চিহ্নিত হলে ফিরবেন। আব্দুল করিম, অঙ্কিত রাই সহ আরও কয়েকজন তাঁদের পরিবার নিয়ে আপাতত আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাও ফিরবেন না বলে প্রতিবেশীদের জানিয়েছেন।
আশুতোষ কুমার নামের এক আবাসিকের দুই সন্তান ডায়ারিয়া ও পেটের সমস্যায় ভুগছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শুক্রবারের মধ্যে তাঁরাও সপরিবারে কোনও হোটেলে গিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করছেন। আবাসিকদের কথায়, বৃহস্পতিবার থেকে যে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে সমাধান কিছু হয়নি। কারণ, ওই জল পান করা, রান্না করা, ব্রাশ করা, বাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই অবস্থায় থাকাটাই মুশকিল।
এনকেডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইপলাইন অনেকদিন পরিষ্কার হয়নি। পাইপে কিছু লিকেজও ধরা পড়েছে। বহু ভালভ অকেজো। কমপ্লেক্স স্থাপনের পর থেকে এ বিষয়ে রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে বর্জ্য জমে দূষণ ছড়িয়েছে বলে অনুমান। এখন যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।