• নেতার নামে স্কুলের জমি মিউটেশনে প্রশ্ন, বিতর্ক পানিহাটিতে
    এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আপত্তি ছিল সরকারি স্তরেই। তা সত্ত্বেও বছর খানেক আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিবন্ধী স্কুল এবং গ্রন্থাগারের জমি আচমকা শাসকদলের এক বিধায়ক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে মিউটেশন করার অভিযোগ উঠল। এ বিষয়ে খোদ পুর কর্তৃপক্ষই অন্ধকারে! তাঁদের নজর এড়িয়ে কী ভাবে সংশ্লিষ্ট জমির মিউটেশন হলো তা জানতে চেয়ে পুরপ্রধান শোকজ় করেছেন মিউটেশন বিভাগকে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পানিহাটিতে।

    সোদপুর স্টেশন সংলগ্ন স্কুল রোড সি ব্লকে ছিল বিধানচন্দ্র রায় প্রতিবন্ধী বিদ্যায়তন এবং গ্রন্থাগার। ওই জমিতে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল দোতলা প্রতিবন্ধী স্কুল এবং গ্রন্থাগার। যদিও ওই স্কুল এবং গ্রন্থাগারের আজ কোনও অস্তিত্ব নেই। স্কুলের ওই জমি নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। সম্প্রতি স্থানীয় বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে (যার সত্যতা এই সময় পত্রিকা যাচাই করেনি) অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের দিকে। যদিও বিধায়ক অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি স্কুলের ওই জমির মিউটেশন করা হয়েছে। পুর বোর্ডের বৈঠকের রেজ়লিউশন অনুযায়ী কোনও জমির মিউটেশন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পুর প্রতিনিধির সম্মতি প্রয়োজন। অভিযোগ, স্কুলের ওই জমির মিউটেশনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসকদলের পুরপ্রতিনিধিরাই। অন্ধকারে পুরপ্রধান সোমনাথ দে–ও। তিনি বলেন, 'বিষয়টি আমার নজরে আসতেই ওই জমি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে জানতে চেয়েছি।'

    বাম আমলে এক ব্যক্তির দান করা ওই জমিতে তৈরি ওই স্কুলে অনেক পড়ুয়া ছিল। সরকারি অনুদানও মিলত। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আচমকা ওই স্কুল বন্ধ হয়ে যায় এবং বছর খানেক আগে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। ওই স্কুলের সভাপতি ছিলেন বিধায়ক নির্মল ঘোষই। স্কুলটি আচমকা কেন ভেঙে দেওয়া হলো তা নিয়ে যখন পানিহাটিতে গুঞ্জন চলছিল, তার মধ্যেই জমির মিউটেশন করা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'জমি দখলের বিষয়টি আমি প্রকাশ্যে আনার পরেই কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি বিধায়ক নিজে পুরসভায় গিয়ে মিউটেশন করিয়েছেন।' সিপিএম নেতা শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, 'পানিহাটিতে জমি দখলের অভিযোগ নতুন নয়। একের পর এক জমি বিধায়কের মদতেই দখল হয়ে চলেছে।'

    যদিও নির্মল ঘোষ জানান, ২০০৫ সালে সোসাইটির নামে স্কুলের ওই জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে এবং তিনি সোসাইটির সভাপতি। তাঁর মেয়ে ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল থাকায় নিয়মানুযায়ী রেজিস্ট্রিতে তাঁদের নাম ছিল। ২০২৩ সালে ওই জমির মিউটেশন হয়েছে। ওই জমির মধ্যে জমিদাতাদের কিছু জমি থাকায় সেই জমির সীমানা নির্ধারণ এবং জমির পরিমাণ নথিবদ্ধ করার জন্য সম্প্রতি পুরসভায় আবেদন করা হয়েছিল। বিধায়কের কটাক্ষ, 'সরকারি জমি কেউ বিক্রি বা ব্যক্তিগত কাজে যে ব্যবহার করতে পারে না, সেটা বোধহয় ওদের জানা নেই৷'

  • Link to this news (এই সময়)