• নাজিরাবাদের ১৮টি দেহাংশ শনাক্ত, বাকি ৯
    আনন্দবাজার | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১৮টি দেহাংশ শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, নিখোঁজ ১৮ জনের আত্মীয়দের ডিএনএ-র সঙ্গে দেহাংশগুলির ডিএনএ-র নমুনা মিলেছে। তার মধ্যে ১৬ জন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা, এক জন পশ্চিম মেদিনীপুরের এবং এক জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা। ওই ১৮টি পরিবারের হাতে দ্রুত মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে খবর। আইনি প্রক্রিয়া মেনে দেহাংশও দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট ২৭ জনের নিখোঁজ ডায়েরি পুলিশের কাছে জমা পড়েছিল। ২৭টি দেহাংশও উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই হিসেবে এখনও ন’টি দেহাংশ শনাক্ত হওয়া বাকি রইল।

    এ দিকে, ডিএনএ-র নমুনা মিলে গেলেও (ম্যাচিং) মৃত্যুর শংসাপত্র ও দেহাংশ কবে হাতে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট খবর পায়নি মৃতদের পরিবার। দেহাংশ তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আগামী কয়েক দিন লেগে যাবে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

    গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদে পাশাপাশি দু’টি গুদামে আগুন লাগে। ভিতরে ছিলেন দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু শ্রমিক। কয়েক জন শেষ মুহূর্তে বেরোতে পারলেও, অধিকাংশেরই পুড়ে মৃত্যু হয়। টানা প্রায় তিন দিন তল্লাশি চালিয়ে ২৭টি দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেগুলি দেখে পরিচয় চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল না। তাই ফরেন্সিক বিভাগের সহযোগিতায় ডিএনএ ম্যাচিং করার পথে হাঁটে পুলিশ। নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেহাংশের ময়না তদন্তের পরে তা থেকেও নেওয়া হয় ডিএনএ নমুনা। ফরেন্সিক বিভাগ দুই নমুনা মেলানোর কাজ করে।

    বৃহস্পতিবার সকালে ফরেন্সিক বিভাগ থেকে নরেন্দ্রপুর থানাকে জানানো হয়, জমা পড়া ২৭টি রক্তের নমুনার মধ্যে আপাতত ১৮টি নমুনার সঙ্গে ১৮টি দেহাংশের ডিএনএ-র নমুনা মিলেছে। সেই হিসেবে পরিচয় চিহ্নিত করা গিয়েছে। বাকিদের নমুনা মেলানোর কাজ চলছে। পুলিশ জানায়, থানায় ডেকে পরিজনের হাতে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া হবে। তার পরে আদালতের অনুমতিক্রমে দেহাংশও দেওয়া হবে।

    পুলিশের খবর, বারুইপুরের এক জনের দেহ শনাক্ত হয়েছে। বারুইপুরের বাসিন্দা একমাত্র বাসুদেব হালদারই সেই রাতে একটি গুদামে ছিলেন। তবে, এ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ-প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও ফোন পাননি বলেই জানান বাসুদেবের ছেলে দয়াময়। তিনি বলেন, “প্রায় ২৪-২৫ দিন হয়ে গেল। নিয়মিত থানায় যাচ্ছি খোঁজ নিতে। কিন্তু পুলিশ কিছুই বলতে পারছে না। শুনলাম, কিছু দেহ শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে নাকি বাবার দেহও আছে। কিন্তু পুলিশ এখনও কিছুই জানায়নি। শনাক্ত হলে দ্রুত আমাদের হাতে দেহ ও মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হোক।”

    সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরের নিখোঁজ ২১ জনের মধ্যে এক জনের পরিবারকে পুলিশের তরফে ফোন করে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের কথা জানানো হয়েছে বলে খবর। বাকি নিখোঁজদের পরিবারের কাছে কোনও খবরই যায়নি। তমলুকের নিজ্জত গাড়ুপোতা গ্রামের নিখোঁজ বাসিন্দা ক্ষুদিরাম দিন্দার ছেলে নারায়ণ দিন্দা বলেন, ‘‘ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। খুবই উদ্বেগে আছি।’’ তমলুকের নীলকুণ্ঠা গ্রামের বাসিন্দা বিমল মাইতির কাকা গণেশ মাইতি বলেন, ‘‘এখনও প্রশাসনের তরফে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। ওই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করে উদ্বেগে দিন কাটছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)