চলন্ত বাইকে ছাত্রীকে সিঁদুর পরানোর চেষ্টা প্রাক্তনের
আজকাল | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরীক্ষা দিয়ে বাবার সঙ্গে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। অভিযোগ, পিছন থেকে ধাওয়া করে এসে চলন্ত বাইকেই জোর করে তাঁকে সিঁদুর পরানোর চেষ্টা করে এক যুবক।
দুই চলন্ত বাইকের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পথচলতি মানুষ ও এক ভিলেজ পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তকে আটক করে ঝাড়গ্রাম থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গড়শালবনী এলাকায় লোধাশুলি-র ব্যস্ত সড়কে ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত ছাত্রী সাধু রাম চাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাঁওতালি বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী।
তাঁর বাড়ি গোয়ালতোড় এলাকায়; পড়াশোনার জন্য ঝাড়গ্রামে মেসে থাকতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একই এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর আগে সম্পর্ক ছিল।
কয়েক মাস আগে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর পড়াশোনায় মন দেন তিনি। অভিযোগ, এরপর থেকেই তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে অভিযুক্ত যুবক।
শুক্রবার পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে পিছন থেকে বাইক নিয়ে এসে ছাত্রীকে চুল ধরে টেনে সিঁদুর পরানোর চেষ্টা করে। ছাত্রীর বক্তব্য, “আগে সম্পর্ক ছিল, এখন কিছুই নেই। আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু সে বারবার বিরক্ত করছিল। এ'দিন চলন্ত বাইকে চুল ধরে টেনে সিঁদুর পরানোর চেষ্টা করে। একটু হলেই বাইক থেকে পড়ে যেতাম।”
ছাত্রীর বাবার দাবি, “কয়েক দিন ধরেই ছেলেটি বিরক্ত করছিল। সাবধানও করেছিলাম। বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই এখন আমিই মেয়েকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাই।”
মানিকপাড়া বিট হাউসের ভিলেজ পুলিশ জানায়, “দেখে মনে হচ্ছিল ছিনতাই হচ্ছে। আমি এগিয়ে গিয়ে দু’টি বাইক থামাই। একটু হলেই বাসের সামনে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটত।”
ছাত্রীর সঙ্গে থাকা এক বান্ধবীর পোশাকেও সিঁদুর লেগে যায় বলে জানা গিয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সাধু রাম চাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি জানান, শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে বহু ফাঁকা ও জঙ্গল এলাকা থাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি আগেই জানানো হয়েছে, পুলিশের টহল বাড়ানো জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।