প্রয়াত জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখার্জি। পাঠকমহলে যিনি সমাদৃত ছিলেন শংকর নামেই। বয়স হয়েছিল ৯৩। গত বেশ কিছুদিন ধরেই বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ‘চৌরঙ্গী’র লেখক। শুক্রবার দুপুরে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ফেললেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখক।
এক্স-এ শংকর-এর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে যে বাংলা সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল সেকথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, সেই কবে ‘কত অজানারে’ দিয়ে তাঁর পথ চলা শুরু। তারপর গঙ্গা থেকে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। ‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাসের জনপ্রিয়তা তাঁকে রাতারাতি যেমন বাঙালি পাঠকের ঘরের মানুষ করে তুলেছিল তেমনই সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় তাঁর দু'টি উপন্যাস সীমাবদ্ধ এবং জন অরণ্য তাঁকে রাতারাতি আসমুদ্রহিমাচল ভারতের দর্শকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বলয়েও পরিচিত নাম করে তুলেছিল। পরবর্তী সময় এই দু’টি উপন্যাস এবং ‘আশা আকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে প্রকাশিত হয় তাঁর ট্রিলজি, ‘স্বর্গ মর্ত পাতাল’। ১৯৫৯ সালে ঋত্বিক ঘটক-ও শংকরের লেখা 'কত অজানারে' উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ছবি বানিয়েছিলেন। তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি-র নামও। শংকরের 'মান সম্মান' উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ছবি বানিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যভূমিকায় দেখা গিয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তী এবং মুনমুন সেন-কে।
সাত এবং আটের দশকে বাংলা সাহিত্যে যখন রীতিমতো নিজস্ব সাম্রাজ্য স্থাপন করেছেন 'কালকূট', সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, প্রফুল রায়, সমরেশ মজুমদারের মতো তাবড় তাবড় সমীহ করার মতো নাম, সেখানে শুধু পাড়া অথবা শহর নয় পাঠকমহলে প্রায় স্বতন্ত্র দেশ তৈরি করে ফেলেছিলেন শংকর! এতটাই ছিল তাঁর কলমের ম্যাজিক। এর পাশাপাশি ভুললে চলবে না কিশোর সাহিত্যেও অক্লেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। স্মৃতির সরণি দিয়ে হেঁটে এসে রচনা করেছেন একের পর এক স্মৃতি কথা। প্রকাশিত হওয়ামাত্রই তা নিমেষে পরিণত হয়েছিল 'বেস্টসেলার '-এ।