তথাগত চক্রবর্তী: গোবিন্দভোগ ও তুলাইপঞ্জির সঙ্গেই এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ তকমা পেল কনকচূড় ধানের চাল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর, রায়দিঘি ও কুলপি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কনকচূড় ধানের চাষ হয়। চালের তুলনায় এই ধান থেকে তৈরি খইয়ের ব্যবহারই বেশি। বিশ্ববিখ্যাত জয়নগরের মোয়ার মূল উপাদান এই কনকচূড়ের খই। স্বীকৃতিতে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী মহল, তবে রয়েছে উদ্বেগও।
অভিযোগ, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে কনকচূড়ের খইয়ের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধ কমে যাচ্ছে। উৎপাদনও কমছে নানা কারণে। এক মোয়া ব্যবসায়ীর কথায়, “কনকচূড়ের আসল বৈশিষ্ট্য হল তার গন্ধ। সেটাই কমে গেলে মোয়ার মানেও প্রভাব পড়ে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোয়ার বাজারে কনকচূড়ের চাহিদা থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে এই ধানের ব্যবহার সীমিত। উঁচু জমির প্রয়োজন ও তুলনামূলক কম ফলনের কারণে অনেক চাষিই বড় জমিতে অন্য ধান ফলিয়ে অল্প অংশে কনকচূড় চাষ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতির পর সংরক্ষণ ও মানরক্ষায় বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার গোবিন্দভোগ ধান। আর তাই খুশির হাওয়া পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদরে। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ও খণ্ডঘোষের সুগন্ধি চাল গোবিন্দভোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জে।বাংলার তিন ধরনের ঐতিহ্যবাহী চাল গোবিন্দভোগ, তুলাইপঞ্জি ও কনকচূড়কেই হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের শস্যগোলা হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলায় ব্যাপকভাবে চাষ হয় গোবিন্দভোগ সহ বিভিন্ন সুগন্ধি ধান। বিশেষ করে দক্ষিণ দামোদর এলাকার রায়না ও খণ্ডঘোষ ব্লকে এই ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। গোবিন্দভোগ চালের চাহিদা গোটা বিশ্বেই রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গোবিন্দভোগ চাল বিদেশে রপ্তানি হয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা। রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হেরিটেজ স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ দামোদর এলাকার কৃষকদের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বাজারে গোবিন্দভোগের চাহিদা বেড়েছে, ফলে লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর চাহিদা আরও বাড়লে চাষে উৎসাহ বাড়বে। আর তাতে উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। ফলে ঘরে আসবে আরও অর্থ। আর তার হাত ধরেই আসবে সুদিন।