জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো:বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মীদের টানাপড়েন নতুন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় এবার আদালতে অবমাননার মামলা দায় করল কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। ফলে আইনি চাপ আরও বাড়ল প্রশাসনের উপর।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মীদের টানাপড়েন নতুন মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় এবার আদালতে অবমাননার মামলা দায় করল কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। ফলে আইনি চাপ আরও বাড়ল প্রশাসনের উপর।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা বকেয়া ডিএ কর্মীদের দিতে হবে। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটাতে হবে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধের রূপরেখাও দিতে বলা হয় রাজ্যকে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ডিএ কর্মীদের প্রাপ্য— তা আটকে রাখা যায় না।
কিন্তু অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি। সেই প্রেক্ষিতেই ১৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে দেরি হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে। এমনকি প্রশাসনের শীর্ষস্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, আদালত অবমাননার মামলা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের জবাবদিহি করতে হতে পারে। প্রয়োজনে মুখ্যসচিবের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত। যদিও রাজ্যের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলন চলছে। কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সমতা রেখে ডিএ দেওয়ার দাবি বহুবার তুলেছেন কর্মীরা। একাধিক বার ধর্মঘট, অবস্থান, মিছিল— সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। রাজ্য সরকার বারবার জানিয়েছে, আর্থিক চাপের কারণে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
এখন নজর ৬ মার্চের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানো হয় কি না, সেটাই দেখার। তা না হলে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ডিএ-র অঙ্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন— এই ইস্যুতে আপাতত সেই দিকেই চোখ রাজ্য রাজনীতির।