• রেড রোডে নামাজ পড়াটা অধিকার ভেবে নিলে সমস্যা, ওটা পরে বন্ধ হয়ে যাবে: দিলীপ ঘোষ
    ২৪ ঘন্টা | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন ঘোষাল: আজ শুক্রবার দিলীপ ঘোষ তাঁর মর্নিং ওয়াকে বহু বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করলেন। তার কথা থেকেই ভোটবঙ্গে মিলল নতুন খবরও! জানা গেল, এবার ভোটে (2026 WBAssembly Polls) লড়বেন দিলীপজায়া রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar wife of Dilip Ghosh)! এ ছাড়াও তিনি রাস্তায় বসে নমাজ পড়া থেকে এসআইআর, যুবসাথী, লক্ষ্মীভান্ডার নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

    প্রসঙ্গ রাস্তায় নামাজ

    এখানে নিয়ম বলে তো কিছু নেই। কোন কোন সময় শক্তি প্রদর্শন হয়। কোনও কোনও সময় পার্টি বা সরকার এই সুযোগটা দিয়ে মনে করে অনেক কিছু করলাম। ভারতে গণতান্ত্রিকভাবে কেউ রাস্তা আটকাতে পারে না। মুম্বইয়ে ছিল, উত্তরপ্রদেশে ছিল-- বন্ধ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই উৎপাতটা কিছুদিন চলবে, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব করে মুসলিমদের বোঝাতে চাইছেন যে, কত কিছু করলাম। এতে মুসলিমদের কী লাভ হচ্ছে জানি না, তবে বাকি সমাজের মধ্যে একটা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

    নামাজটা তো মসজিদেই...

    মুখ্যমন্ত্রী যদি রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়তে যান, তা হলে কে বন্ধ করবে? কিন্তু এই অভ্যাসটা হয়ে গেলে মুসলিমদেরই অসুবিধা হবে। কারণ নামাজটা তো মসজিদে পড়তে হয়। কোনও বিশেষ কারণ হলে সংখ্যা বেশি হয়, ঈদগাহ আসে তার জন্য কিংবা কোনও মাঠে অনুমতি নিয়ে করা যেতে পারে। কিন্তু রেড রোডে নামাজ পড়াটা যদি অধিকারের মধ্যে পড়ে যায়, পরে বন্ধ হলে সমস্যা হবে। 

    উত্তরবঙ্গে ভাঙন বিজেপিতে

    তিনি বিজেপির কার্যকর্তা ছিলেন না তিনি গজমুমো-র কার্যকর্তা ছিলেন। চিরদিন তাঁর বক্তব্য দেখুন, তিনি বিজেপির আইডিওলজি অনুসারে বলেন না, এজন্য সতর্ক করা হয়েছে। যখন সমঝোতা ছিল গজমুমোর সঙ্গে তখন তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। তিনি তাঁর মতো ছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করেই এসেছিলেন। এখন সেই তৃণমূলেই গেলে মানুষ বিচার করবে। উত্তরবঙ্গ আগে থেকেই শক্ত ঘাঁটি ছিল, এখনও আছে। প্রতিনিধিরা চলে যায় কিন্তু ভোটাররা থাকেন যাঁরা ওঁদের জেতান। তাঁরাই হারাবেন ওঁকে। তাঁরাই আগে জিতিয়েছেন এবং বিজেপিকে তাঁরাই জেতাতেন।

    খড়্গপুরে আবার দিলীপ ঘোষ প্রার্থী?

    কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রার্থী ঠিক করার জন্য একটা নির্দিষ্ট বডি থাকে। জেলা থেকে নির্ণয় নেওয়া হয়, প্রদেশ থেকে নির্ণয় নেয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে পার্লামেন্টারি বোর্ডে। পার্লামেন্ট বা অ্যাসেম্বলি ইলেকশনের জন্য প্রার্থী বাছাই করে দলের সিলমোহর পড়লে সেই তালিকাটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে আলাপ আলোচনা জল্পনা তো চলতেই থাকে। যাঁরা অর্থনীতিতে আছেন, দায়িত্বে আছেন, তাঁরা নাম পাঠান-- সেই প্রক্রিয়া চলছে।

    ড্রপবক্সে দিলীপজায়ার আবেদন

    ফিডব্যাক নেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। যত নাম এসেছে সেগুলোর তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। যাকে যোগ্য মনে করবে প্রার্থী তাকেই করবে দল। যতদূর খবর পেয়েছি প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাম ড্রপবক্সে পড়েছে; তার বেশিও হতে পারে। আমার স্ত্রী দলের পুরনো কর্মী। অনেকে যেমন নাম দিয়েছেন, উনিও নিজের ইচ্ছা জাহির করেছেন, 'ভোটে লড়ব' বলে। পার্টি যোগ্য মনে করলে তাঁকে টিকিট দেবে।

    রিংকুর প্রার্থীপদে আপনার সবুজ সংকেত রয়েছে?

    আমি ওঁকে কখনো বলিনি যে, রাজনীতি করতে পারবে না! রাজনীতি করো, তোমার ইচ্ছেমতো। পার্টি বাকি ডিসিশন নেবে। আমাদের আবার সংসার কী! বাড়িতে লোক আছে; মা আছেন সামলাবার জন্য। রাজনীতি ও আগে থেকেই করে, আমিও আগে থেকেই করি, সেভাবেই করব। তারপরে কী হব, কি হব না-- সেটা পার্টি ঠিক করবে! দুজনের আলাদা আলাদা সংসার ছিল, এক হয়েছে। এবার দুজনে লড়াই করবে, পার্টির কর্মীরা লড়াই করবেন। তাঁরা পার্টির নেতাদের জেতান, এমনি কেউ জেতেন না।

    এসআইআর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা পিছোবে?

    যেটা খবরে শুনলাম, ৮৫ লাখ লোকের ভাগ্য ঝুলে আছে। তার মধ্যে ৫০ লাখ লোকের তো কোন তথ্যই আসেনি! আসা সম্ভব নয়, কারণ এঁরা সব ফলস ভোটার। জোর করে ভোটার করা হয়েছে। এজন্য বেশ কিছু অফিসারকে শোকজ করা হয়েছে। আমার মনে হয় হয়ে এসেছে সব কাজ, এক দিন বেশি লাগতে পারে, সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে।

    এসআইআর-চাপে তৃণমূল

    শাসকদল প্রথম থেকেই এসআইআর-এর চাপে আছে। এসআইআর শুনেই জ্বর চলে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা বেরোলে সেই জ্বরটা ১০২/৩ ডিগ্রি হয়ে যেতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস কেন মনে করছে যে, ওদের নিজেদের ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে? ঝগড়াটা তো ওরাই করছে! অন্য কোন দল তো বিক্ষোভ প্রদর্শন করেনি। বিএলওদের আটকায়নি। তার বাড়িতে ঢিল মারেনি। ভয় দেখায়নি। বিজেপিও করেনি। শেষ যে এসআইআর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে তখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল। সিপিএমের লাভ হয়েছে, সিপিএম জিতেছিল সেবার। তৃণমূল কেন ভয় পাচ্ছে, হেরে যাবে? যেমন বিহারে ইলেকশন হল, ৬৩ লক্ষ লোকের নাম বাদ গেল। বিজেপি সরকারের ছিল, আবার বিজেপিই জিতল। এখানেও তাই হওয়া উচিত তো, কিন্তু মনে হচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।

    লক্ষী ভান্ডার, সঙ্গে যুব সাথী-- প্রভাব পড়বে?

    মানুষ এত বোকা নয় যে, দু-চার টাকা নিয়ে ভোট দিয়ে দেবে। টাকা নেওয়ার নিয়ে নেবে, কিন্তু ভোট যেখানে দেওয়ার ঠিক সেখানেই দেবে!

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)