• 'চাকরিখেকো, উগ্র, সিপিএমপন্থী' আইনজীবীর বিরুদ্ধে মহিলা সহকর্মীর অপকর্মের অভিযোগ! ফের কুণালের চিঠি-বোমা...
    ২৪ ঘন্টা | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাম শিবিরের অস্বস্তি যেন কাটতেই চাইছে না। একদিকে তরুণ নেতা প্রতীক উর-এর দলত্যাগ ও পরবর্তী ক্ষোভ সামলাতে না সামলাতেই, এবার আইনি ও নৈতিক প্রশ্নে বিদ্ধ আলিমুদ্দিন। সৌজন্যে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের একটি বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।

    রাজ্য রাজনীতিতে বামেদের অস্বস্তি এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভা ভোটের পর থেকেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অন্দরে যে চোরা স্রোত বইছিল, তা এখন প্রকাশ্যে উত্তাল ঢেউয়ের আকার নিয়েছে। একদিকে তরুণ নেতা প্রতীক উর-এর ইস্তফা এবং দলের অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে তাঁর তোলা অভিযোগের রেশ এখনও কাটেনি; এর মাঝেই শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত বোমা ফাটালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর নিশানায় এবার সিপিএমের এক ‘হেভিওয়েট’ আইনজীবী।

    কুণাল ঘোষের ‘বিস্ফোরক’ পোস্ট ও যৌন হেনস্থার ইঙ্গিত

    শুক্রবার সকালে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁর ফেসবুক পেজে একটি সুদীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সিপিএমের এক প্রভাবশালী ‘চাকরিখেকো’ আইনজীবীর বিরুদ্ধে তাঁরই এক মহিলা সহকর্মী এবং দলের সমর্থক আইনজীবী রাজ্য সম্পাদকের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

    কুণাল ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

    ১. অভিযুক্ত আইনজীবী নিজের প্রভাব ও মিডিয়া প্রচার ব্যবহার করে নানা ‘অপকর্ম’ (অসুরটাইপ আচরণ) করেছেন।

    ২. ভুক্তভোগী মহিলা পুলিসে যাওয়ার আগে দলের কাছে বিচার চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

    ৩. সেই চিঠির একটি কপি নাকি কুণাল ঘোষের হাতেও পৌঁছেছে।

    ৪. অভিযোগকারিনী মহিলা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

    যদিও কুণাল ঘোষ সরাসরি কারও নাম নেননি, কিন্তু তাঁর পোস্টে ‘চাকরিখেকো’, ‘মামলা করে চাকরি বাতিলের কারিগর’ এবং ‘মিডিয়ায় ডায়লগবাজি’র মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করায় রাজনৈতিক মহলের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, তাঁর তীরের নিশানায় কে।

    প্রতীক উর বনাম আলিমুদ্দিন: একই সূত্রে গাঁথা অস্বস্তি?

    এই নতুন বিড়ম্বনার সঙ্গে প্রতীক উর-এর ঘটনার এক অদ্ভুত সমান্তরাল রেখা খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। প্রতীক উর দল ছাড়ার সময় অভিযোগ করেছিলেন যে, দলের অভ্যন্তরীণ চিঠিপত্র ও গোপন কথা বাইরে চলে আসছে। মজার বিষয় হল, শুক্রবার কুণাল ঘোষও দাবি করেছেন যে, এই মহিলা আইনজীবীর অভিযোগপত্রের কপি তিনি পেয়েছেন স্বয়ং ‘সিপিএম সূত্র’ থেকেই।

    যদি কুণালের দাবি সত্যি হয়, তবে প্রশ্ন উঠছে—পার্টির অন্দরে কি তবে বড়সড় ফাটল ধরেছে? কেন দলের অত্যন্ত গোপনীয় চিঠি তৃণমূল নেতার ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যাচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন আলিমুদ্দিনের নেতাদের রাতের ঘুম কেড়েছে। 

    বিমান বসুর মতো বর্ষীয়ান নেতারা যখন প্রতীক উরকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছেন, তখন এই নতুন কেলেঙ্কারির অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে আরও কালিমালিপ্ত করছে।

    ২৬ হাজার চাকরি এবং ‘পেয়ারেলাল’ খোঁচা

    কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে এসএসসি (SSC) মামলার ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ টেনেছেন। কুণালের দাবি, যে ব্যক্তি আইনি লড়াইয়ের নামে হাজার হাজার মানুষের রুজি-রোজগার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁর আসল চরিত্র নাকি এবার দলের অন্দরেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

    তিনি শ্লেষের সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, আলিমুদ্দিনের ‘পেয়ারেলালরা’ (বামেদের বুদ্ধিজীবী অংশ) কি এখন এই অভিযুক্তকে বাঁচাতে মাঠে নামবেন? নাকি ওই মহিলা আইনজীবীকে বিচার পাইয়ে দেবেন? 

    কুণাল স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে অভিযোগকারিনীকেই চুপ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সিপিএম নেতৃত্ব।

    ঝুলে থাকা প্রশ্ন এবং আগামীর জল্পনা

    কুণাল ঘোষ যদিও জানিয়েছেন যে, চিঠির সত্যতা তিনি নিজে যাচাই করেননি এবং এখনই সেই চিঠি জনসমক্ষে আনছেন না। তবে এই পোস্টের ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।

    কুণাল ঘোষের হাতের সেই ‘বিস্ফোরক চিঠি’ কবে প্রকাশ্যে আসে, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর অনেক সমীকরণ।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)