• ভোটের মুখে বড় ধাক্কা! ৩৬৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ
    এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন আর মাত্র কয়েক মাস দূরে। ঠিক এই সময়েই বড় মাপের দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্যের ক্ষমতাসীন DMK সরকার। পুরপ্রশাসন ও জল সরবরাহ মন্ত্রী কে এন নেহরুর বিরুদ্ধে ৩৬৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে FIR দায়ের করার নির্দেশ দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED-র জমা দেওয়া তথ্য পর্যালোচনার পরেই এই কড়া পদক্ষেপ নিল আদালতের।

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ED-র জমা দেওয়া নথি নিছক অভিযোগ নয়। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে শুরু করে ডিজিটাল লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে এই নথিতে। পছন্দের বদলি, পোস্টিং এবং সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৭ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন মন্ত্রী বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে মোট অঙ্কের পরিমাণ প্রায় ৩৬৫.৮৭ কোটি টাকা! এই টাকা রিয়েল এস্টেট, সোনা ক্রয় এমনকি বিদেশে সম্পত্তি কিনতেও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় এজেন্সির।

    তবে এই ঘটনা নতুন করে এক পুরনো বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, নির্বাচন শিয়রে আসলেই কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি এত সক্রিয় হয়ে ওঠে? পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা ভোট বা লোকসভা ভোটের মাসখানেক আগে হঠাৎ ED বা CBI-এর তৎপরতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়।

    ২০২০ সালে রাজস্থান, ২০২২ সালে পাঞ্জাব কিংবা ২০২৩ সালে কর্নাটক ও ছত্তিসগড়— প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচনের কয়েক দিন আগে বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতাদের বাড়িতে রেইড বা গ্রেপ্তারি দেখা গিয়েছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল দুই মুখ্যমন্ত্রী— অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং হেমন্ত সোরেনকে। নির্বাচনের পরে তাঁদের মামলাগুলি নিয়ে আর নাড়াঘাঁটা করা হয়নি।

    এমনকী ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে TMC-এর পোল স্ট্র্যাটেজিস্ট IPAC-এর অফিসেও রেইড চালিয়েছে ED। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ইডি-র অভিযানের সংখ্যা ২৭ গুণ বেড়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ মামলাই দায়ের হয়েছে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে।

    তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও এই ‘প্যাটার্ন’ স্পষ্ট বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তবে আদালতের কড়া নির্দেশের পরে ডিরেক্টরেট অফ ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন (DVAC) আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বাধ্য। এখন দেখার, এই আইনি লড়াই নির্বাচনের ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • Link to this news (এই সময়)