• পুকুরের সংস্কারের সময়ে উঠে এলো বিষ্ণু মূর্তি! হইচই কাণ্ড মেমারিতে
    এই সময় | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • চলছিল পুকুরের সংস্কারের কাজ, তখনই উঠে এলো বিষ্ণু মূর্তি! হইচই কাণ্ড পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার অন্তর্গত দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়র গ্রামের ভেবো এলাকায়। আর সেই মূর্তিকে (IDOL) ঘিরে আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ল গোটা গ্রামে।

    দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়র গ্রামের ভেবোতে একটি পুকুর আর্থ মুভার দিয়ে কাটা হচ্ছিল। খনন চলাকালীন বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি মূর্তি। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। মূর্তিটিকে ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকে। সেটি বহু প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি বলেই মনে করছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরাই মূর্তিটি সযত্নে তুলে পরিষ্কার করে একটি মন্দিরে (Temple) রেখে দেন। মূর্তি উদ্ধারের খবর যায় মেমারি থানায়। শুক্রবার সকালে মেমারি থানার পুলিশ বড়র গ্রামে পৌঁছয়। স্থানীয় একটি আশ্রমের গাড়ি করে মূর্তিটিকে উদ্ধার করে পুলিশ, মেমারি থানায় নিয়ে যায়। খবর দেওয়া হয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক (Archaeologists) বিভাগে।

    ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তিটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, এটি ভগবান বিষ্ণুর একটি ধ্রুপদী ‘স্থানক’ মূর্তি। যার সামগ্রিক অলঙ্করণ এবং পাথর খোদাইয়ের সূক্ষ্ম রীতি বিচার করলে একে অনায়াসেই দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর পাল কিংবা সেন (Pal and Sen Era) আমলের শিল্পশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। মূর্তির দেহভঙ্গিটি ‘সমভঙ্গ ’ মুদ্রায় বিন্যস্ত, অর্থাৎ ভগবান এখানে সোজা হয়ে দণ্ডায়মান, যা ওই সময়ের ভাস্কর্যে দৈব গাম্ভীর্য প্রকাশের একটি প্রধান মাধ্যম ছিল। পাল–সেন যুগের মূর্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সূক্ষ্ম গহনার অলঙ্করণ। এখানেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খোদাই করা হার, যজ্ঞোপবীত (পৈতা) এবং মস্তকের সুউচ্চ কিরীটমুকুট, যা প্রাচীন বাংলার উৎকৃষ্ট শিল্পবোধের পরিচয় করায়।

    চতুর্ভুজ এই বিষ্ণু মূর্তিটির উপরের ডান হাতে ‘কৌমোদকী’ গদা এবং উপরের বাম হাতে ‘সুদর্শন চক্র’ রয়েছে। যদিও বাম হাতের একটি অংশ এই খননের সময় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। মূর্তিটি কীভাবে সেখানে পৌঁছল তা অনুসন্ধান করবে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)