• ‘ওঁর লেখনীতে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের কথা’, শংকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মমতা
    প্রতিদিন | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • না ফেরার দেশে প্রবীণ সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়। শুক্রবারই অমৃতলোকে পাড়ি দিয়েছেন ‘চৌরঙ্গী’, ‘সীমাবদ্ধ’র স্রষ্টা শংকর। খবর, বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। দুঃসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই শোকের আবহ সাহিত্যজগৎ থেকে বইপাড়ায় শোকের আবহ। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের নক্ষত্রপতনে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল।” তাঁর সৃষ্টিতে কীভাবে আমজনতার সুখ-দুঃখ থেকে জীবনসংগ্রামের কাহিনি ফুটে উঠত, সেকথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযোজন, “‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জনঅরণ্য’- তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের অমূল্য সম্পদ। শংকরের প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।” পাশাপাশি বর্ষীয়ান সাহিত্যিকের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীর উদ্দেশেও সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শংকরের প্রয়াণে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। সোশাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে সাংসদ লিখেছেন, ‘বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর সৃষ্ট অসামান্য সাহিত্যকীর্তি – ‘চৌরঙ্গী’, ‘জনঅরণ্য’, ‘সীমাবদ্ধ’ প্রভৃতি বাংলার পাঠকসমাজকে সমৃদ্ধ করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। করুণাময় ঈশ্বরের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ পাঠকের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা রইল।’

    গত শতকের তিনের দশকে, ১৯৩৩ সালে বনগাঁয় জন্ম শংকরের। তবে ছোট বয়সেই সপরিবারে চলে আসেন হাওড়ায়। কিশোর বয়সেই হারান বাবাকে। গ্রাসাচ্ছেদনের জন্য শুরু হয় লড়াই। একার কাঁধে সংসারের জোয়াল টানতে কখনও কেরানির কাজ যেমন করেছেন, করেছেন হকারিও। আর সেই সূত্রেই কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার নায়েল ফ্রেডারিক বারওয়েলের অধীনে চাকরি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লেখেন ‘কত অজানারে।’ এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শংকরকে। বাংলা সাহিত্য পেল এক নতুন সাহিত্যিককে। তবে তাঁকে প্রকৃত জনপ্রিয়তা দিয়েছিল ‘চৌরঙ্গী’। শাজাহান হোটেলের সুখ-দুঃখের সেই আখ্যান শংকরকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়। আজও এই অমোঘ গ্রন্থটি বেস্ট সেলার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)