পরকীয়ায় বাধা, প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী
আজ তক | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পরকীয়ার সম্পর্কের পথে 'বাধা' হয়ে উঠেছিলেন স্বামী। তাই তাঁকে সরাতেই প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে খুনের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। খুনের পর অপহরণের নাটক সাজিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন অভিযুক্ত প্রেমিক। কিন্তু পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়েন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার খেতিয়া বিজয়বাটি এলাকায়। পুলিশ মৃতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং তাঁর প্রেমিক তথা মৃতের বন্ধু মুমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি (৪৪)। তিনি কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন চেন্নাইয়ে থাকতেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন এবং সেখানেই ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা।
অপহরণের অভিযোগ দিয়েই তদন্ত শুরু
পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মুমতাজউদ্দিন শেখ নিজেই দেওয়ানদিঘি থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ করেন, তাঁর বন্ধু সফিকুল ইসলাম আনসারিকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি পুলিশকে জানান, সেদিন সকালে সফিকুল তাঁর স্ত্রী রাজিয়া এবং কন্যাকে নিয়ে খেতিয়ার মিলিকপাড়ায় মুমতাজউদ্দিনের বাড়িতে যান।
এরপর বিকেলে সফিকুল এবং মুমতাজউদ্দিন একটি গয়নার দোকানে কেনাকাটা করতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে ফেরার পথে মোটরবাইকে থাকা অবস্থায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। মুমতাজউদ্দিন কোনওভাবে পালাতে সক্ষম হলেও সফিকুলকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
খালের ধারে দেহ উদ্ধার
তদন্ত চলাকালীন মিলিকপাড়া এলাকার একটি ক্যানেলের ধারে উদ্ধার হয় সফিকুলের নিথর দেহ। এর পর থেকেই সন্দেহ ঘনীভূত হতে শুরু করে। পুলিশ মুমতাজউদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জেরায় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। চাপ বাড়তেই ভেঙে পড়েন তিনি। তদন্তে উঠে আসে, সফিকুলের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং মুমতাজউদ্দিনের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।
পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিত খুন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সফিকুল চেন্নাইয়ে থাকাকালীন রাজিয়া এবং মুমতাজউদ্দিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। মুমতাজউদ্দিন নিজেও বিবাহিত। কিন্তু সফিকুল বাড়িতে ফিরে আসায় তাঁদের সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল।
অভিযোগ, রাজিয়াকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন মুমতাজউদ্দিন। এরপরই তাঁরা যৌথভাবে সফিকুলকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন সফিকুলকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান মুমতাজউদ্দিন। পরে গয়না কেনার অজুহাতে মোটরবাইকে করে তাঁকে নির্জন ক্যানেলের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
জেরায় অপরাধ স্বীকার স্ত্রীর
প্রেমিককে গ্রেফতারের পর পুলিশ রাজিয়া সুলতানাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরার মুখে তিনিও নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক ব্যানার্জি জানিয়েছেন, 'প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। নাকেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এলাকায় চাঞ্চল্য, আতঙ্ক বাসিন্দাদের মধ্যে
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, সফিকুল এবং মুমতাজউদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল। সেই বন্ধুত্বের আড়ালেই এমন ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চলছিল, তা কেউ বুঝতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন।
রিপোর্টার: সুজাতা মেহেরা