• বিজেপির বিরুদ্ধে ‘আপত্তিজনক পোস্ট’, একমাস ভারতেই আটকে ব্রিটিশ চিকিৎসক
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় মনের ভাব প্রকাশ করে কয়েকটি বাক্য লিখেছিলেন। সেই কথাগুলি যে তাঁকে জটিল সমস্যার ফাঁদে ফেলে দেবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁর দোষ, যে কথাগুলি লিখেছেন, সেটি দেশের প্রধান শাসকদলের বিরোধী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সংগ্রাম পাতিল এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে এ দেশেই। সংগ্রামের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি হওয়ার কারণে বর্তমানে তিনি আদালতের শুনানির অপেক্ষায়।

    গত ১৪ নভেম্বর ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন পেশায় চিকিৎসক সংগ্রাম। সেই পোস্টের একটি বাক্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও বিজেপি সম্পর্কে কিছু মতামত জানিয়েছিলেন তিনি। এর ঠিক চার দিন পরে মহারাষ্ট্রের বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ নিখিল ভামরে সংগ্রামের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংগ্রামের বিরুদ্বে লুক আউট সার্কুলার জারি করে পুলিশ। মুম্বই থেকে লন্ডনে নিজের বাড়ি ফেরার পথেই বিমানবন্দরে আটক করা হয় সংগ্রামকে। এর পরে কেটে গিয়েছে একটি মাস।

    পুলিশ জানিয়েছে, ভামরে অভিযোগ করেছেন সংগ্রামের ওই পোস্টটি বিজেপির সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করতে পারে। পুলিশ পাতিলের বিরুদ্ধে ভারতের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। শত্রুতা এবং ঘৃণার অনুভূতি তৈরি করতে পারে এমন ‘মিথ্যা তথ্য সম্বলিত বিবৃতি’ দেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অপরাধ জামিনযোগ্য এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

    একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সংগ্রাম বলেন, ‘আমার পোস্টটি সরকার সমর্থকদের কাছে একটি সহজ প্রশ্ন ছিল এবং অন্য কিছু নয়। এতে কোনও সম্প্রদায়, কোনও গুজব বা চাঞ্চল্যকর খবর জড়িত নয়।’ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সংগ্রাম বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা বেআইনি।’

    লুক আউট সার্কুলার জারি করার আগে সংগ্রামকে ১০ জানুয়ারি ১০ ঘণ্টারও বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পরে ১৬ জানুয়ারি তাঁকে ফের ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পুলিশের সমস্ত প্রশ্নের ‘লিখিত উত্তর’ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংগ্রাম। লুক আউট সার্কুলার বাতিলের আবেদনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সংগ্রামের ফিরে যাওয়ার দিনেই বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

    গোটা ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি মুম্বইয়ের একটি আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখানে পুলিশ জানিয়েছে, এই গুরুতর বিষয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কেন একজন বিদেশি নাগরিক, একজন শিক্ষিত ব্যক্তি ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ভিত্তি ছাড়াই মানহানিকর, কলঙ্কজনক, অশ্লীল বিষয় পোস্ট করেছেন। তবে সংগ্রাম তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর উপরে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)