দুয়ারে ভোট। এই অবস্থায় সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজবংশী এবং কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের আওতাভুক্ত করার দাবি করল রাজ্য সরকার। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে লিখিত আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। প্রসঙ্গত, এখন বাংলা-সহ মোট ২২টি ভাষা সরকার স্বীকৃত ভাষা হিসাবে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত। ভোটের আগে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জনজাতি, তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষদের রাজনৈতিক ভাবে যে নজরে রাখতে চাইছে শাসক দল, তা কার্যত স্পষ্ট।
২০২০-র ৫ ডিসেম্বর এবং ২০২১-এর ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে সারি-সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে লিখিত অনুরোধ করেন। পরে ২০২২-এ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সারি এবং সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব পাশ হয়। পরের বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটি পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে তা পাঠানো হয়। বিধানসভায় পাশ হওয়া প্রস্তাবটি কেন্দ্রকে পাঠানো হয় ২০২৩-এর ২৭ মার্চ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মনোজ পন্থ মুখ্যসচিব হিসেবে একই প্রস্তাব পাঠান কেন্দ্রকে। সাম্প্রতিক চিঠিতে বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী মন্ত্রককে জানান, ধর্মাচরণের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত করতে এই ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। নবান্ন জানিয়েছে, রাজবংশী তফসিলি জাতিভুক্ত এবং সেই ভাষার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। আবার কয়েক লক্ষ মানুষ কুড়মালি ভাষায় কথা বলে থাকেন। তাই এই দুই ভাষাকে অষ্টম তফসিলের আওতাভুক্ত করুক কেন্দ্র।