রাজ্যসভার ভোটের তারিখ ঘোষণার পরেই বিধানসভা ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে নজর রাজনৈতিক শিবিরের। পাঁচটির মধ্যে চারটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের, ফলে জল্পনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে সর্বাধিক।
রাজ্যসভার সাংসদ-পদ থেকে আগেই ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নূর। ওই আসনে ওজনদার এক জন সংখ্যালঘু নামের খোঁজে রয়েছে। সূত্রের খবর, ‘ইন্ডিয়ান মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’-এর প্রেসিডেন্ট মৌলনা খালিদ সৈইফুল্লা রহমানির নাম বিবেচনার তালিকায় এগিয়ে রয়েছে। নৃত্যশিল্পী তথা ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যদি তিনি শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় আসেন, তা হলে বড় চমক দেখা যাবে। বিনোদন শিল্প ও চলচ্চিত্র জগতের প্রতিনিধি হিসাবে ডোনার পাশাপাশি উঠছে অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতার ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর হাত থেকে ‘মহানায়ক’ সম্মান পেয়েছেন অতীতে। তৃণমূলের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় সম্প্রতি রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় এক জনমুখী প্রকল্পের কথা তথ্য-কাহিনি চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে অভিনয়ও করেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভাতেই পুনর্নির্বাচিত হয়ে নতুন এবং পূর্ণ মেয়াদ পাবেন (গত বারে ছিলেন জহর সরকারের ছেড়ে দেওয়ার পরে ‘ভাঙা’ মেয়াদে) নাকি তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে দোটানা রয়েছে। দলের একাংশের মতে, বিষয়টি এখনও ৫০:৫০ হয়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রীর ইচ্ছাই এ ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হবে।
প্রসঙ্গত, মেয়াদ শেষ হওয়া সুব্রত বক্সী আবার দাঁড়াতে রাজি নন। আবার আর এক সাংসদ সাকেত গোখলেকে ফের নিয়ে আসা হবে কি না, তা নিয়ে চূ়ড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলেই বলেই খবর। একটি সূত্রের বক্তব্য,, গোড়ায় তৃণমূল নেতৃত্ব অন্য কোনও রাজ্য নয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই রাজ্যসভায় প্রতিনিধি পাঠাতে চাইছিলেন। আলোচনায় ‘বন্ধন’ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রশেখর ঘোষের নামও উঠে আসছে।