৩৩ জন শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাদের আপত্তিকর ভিডিয়ো তুলে ডার্ক ওয়েনে বিক্রির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতি। বান্দায় পকসো আইনের জন্য বিশেষ বিচারকের আদালত মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে ওই দম্পতিকে।
দোষী সাব্যস্তরা হলেন, সেচ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাম ভবন এবং তার স্ত্রী দুর্গাবতী। ভারতীয় দণ্ডবিধি, পকসো আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তারা। উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূটে ছয় বছর আগে ডার্ক ওয়েবে নাবালক শিশুদের পর্নোগ্রাফিক ভিডিয়ো বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। তদন্তে উঠে আসে ৩৩ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ।
বছর ছয়েক আগে বান্দা, চিত্রকূট এবং আশেপাশের জেলাগুলি থেকে একের পর এক শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। তদন্তের ভার হাতে নেয় খোদ সিবিআই। এর পরেই তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২০ সালের অক্টোবরে এতগুলি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে রাম ভবন এবং তার স্ত্রী দুর্গাবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা তাদের পাড়া এবং আশপাশের অঞ্চলের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পাঁচ থেকে ষোল বছর বয়সি শিশুদের টার্গেট করত। তাদের নানা প্রলোভনে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালাত এবং মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে এই ঘটনাগুলি রেকর্ড করত। ধৃতদের কাছ থেতে বাজেয়াপ্ত ডিভাইস থেকে বিপুল পরিমাণে আপত্তিকর ভিডিয়ো উদ্ধার হয়েছে। এনক্রিপ্ট করা প্ল্যাটফর্ম এবং ডার্কনেট-এ বিদেশি নাগরিকদের ওই ভিডিয়ো বিত্রি করা হতো।
প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীরা ৩৩ জন শিশুকে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে তিন বছরেরও কম বয়সি বেশ কিছু শিশুও ছিল। আদালত প্রত্যেক নির্যাতিত শিশুর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে দোষীদের। তদন্তের সময় সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছিল দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে।
সিবিআই (CBI) ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রামভবন এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত বলেছে যে মামলাটি ‘বিরলতমের মধ্যে বিরলতম’ কারণ তাদের অপরাধের প্রকৃতি অত্যন্ত ঘৃণ্য, নৃশংস।