এই সময়, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলা রক্ষার্থে যদি ডিজিপি ব্যর্থ হন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চে শুক্রবার বাংলার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার) সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রসঙ্গটি ওঠে। এই মামলার সর্বশেষ শুনানিতে আদালত ডিজিপিকে শো–কজ় করেছিল।
‘সার’–এর কাজে যুক্ত কমিশনের কর্মী–অফিসারদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে এবং রাজ্য পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ করছে না বলে আগেই সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ জানায় ইসি। এর প্রেক্ষিতেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল ডিজিপিকে। এ দিন সিজেআই সূর্য কান্ত জানতে চান, ‘ডিজিপিকে যে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছিল, তার কী হলো?’ রাজ্যের তরফে প্রবীণ কৌঁসুলি কপিল সিবাল জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিজিপির তরফে হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডের তরফে আর এক প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি যুক্তি দেন, ‘তিনি আইন মেনেই সব পদক্ষেপ করেছেন।’
যদিও এই সময়েই কমিশনের কৌঁসুলি ডিএস নাইডু অভিযোগ করেন, ‘সার’–এর কাজে বাধাদান সংক্রান্ত আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে অন্তত ২৮টি ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি।
কমিশনের কৌঁসুলির সওয়াল, ‘ডিজিপি আইন মেনে পদক্ষেপ করছেন না৷ এখনও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে কমিশনের প্রতিনিধিদের৷ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কমিশনের বিরুদ্ধে প্ররোচনা মূলক ভাষণ দেওয়া হচ্ছে৷ তারপরেও কোনও পদক্ষেপ করছে না রাজ্য পুলিশ৷’ এই অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রিত না হলে ডিজিপি-কে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’ কোন কোন নেতা প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিয়ে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা তৈরি করছেন, তার তালিকা আদালতে তুলে ধরতে চাইছিলেন কমিশনের আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন এলেই সারা দেশে এই ধরনের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে।’
এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা আগামী শুনানিতে ডিজি-কে নতুন সংযোজিত হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলার নতুন করে অবনতি ঘটলে হলফনামায় তা-ও জানাতে হবে, নির্দেশ দেন সিজেআই সূর্য কান্ত৷
ডিজিপি–র তরফে মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘কমিশন অসত্য বলছে। ডিজিপি বিস্তারিত হলফনামা জমা দিয়ে তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন। তিনি আইন মেনে যথাযথ পদক্ষেপ করেছেন৷’ সিজেআই কমিশনের আইনজীবীর কাছ থেকে জানতে চান, পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না? কমিশন জানায়, আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এই বিষয় নিয়ে তারা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত৷ ‘সার’–এর কাজ করানোর জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার পরামর্শও দেয় কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বিশেষ দায়িত্বে থাকবেন।
ডিজিপি–র উদ্দেশে সুপ্রিম–হুঁশিয়ারি নিয়ে এ দিন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ‘ডিজির ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এই উদ্বেগ শুধু আদালতের নয়, গোটা দেশের। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা প্রয়োজন। আমরা চাইব, শীর্ষ আদালত ডিজিপি এবং রাজ্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক।’