• রং ফিরল একুশে, শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা তারেকের
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ঢাকা: শুক্রবার বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটা রাত ঠিক ১২টা বেজে এক মিনিটে পৌঁছতেই লাউড স্পিকারের বেজে উঠল গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...’। ধীর পায়ে ও নতমস্তকে এগিয়ে শহিদ মিনারের বেদিতে ফুলের স্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। একে একে মন্ত্রী–পরিষদের সদস্যরা, ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কুটনীতিক, সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে অপর দুই বাহিনীর প্রধান, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ-সহ বিভিন্ন পেশার মানূষ তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। শুক্রবার রাত ৮টার পরেই সরকারি কর্তারা দলে-দলে হাজির হয়েছিলেন শহিদ মিনারের অদূরে জিমনাশিয়াম গ্রাউন্ডে।

    আওয়ামি লিগ (Awami League) এবং প্রগতিশীল আরও কিছু দল গত বছরের মতো এ বারও ছিল অনুপস্থিত। সরকারি ভাবে আওয়ামি লিগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় ওই দলের কর্মীরা শহিদ মিনারের আশেপাশেও আসতে পারেননি। তবে, এই প্রথম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির শফিকুর রহমান মধ্যরাতে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে জামায়াত প্রধান গোলাম আজমও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসাবে অংশ নিয়েছিলেন। তবে পরে ১৯৭০-এ এই কাজের জন্য ভুল স্বীকার করেছিলেন।

    ঢাকায় একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ঘিরে গত বারের চেয়ে কিছুটা উদ্দীপনা ফিরলেও আগের আবহ অনুপস্থিত। একুশের প্রথম প্রহর ঘিরে গোটা দেশে যে আবেগ তৈরি হয়, তাতেও যেন ঘাটতি ছিল এ বার। তবে আগের মতো এ বারও একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আঁকা হয়েছে ন’টি আলপনা।

    একুশের চেতনা যে বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনার ভিত্তিমূল, জাগরণের জিয়নকাঠি— তা এ বারের ভোটের ফলাফলে আবারও উঠে এসেছে। একুশে হচ্ছে বাংলাভাষীদের অহঙ্কার, শুদ্ধ চেতনার বিস্ফোরণ, তা মনে রেখেই বিএনপি সরকার ইউনূস জমানার চিন্তা সরিয়ে দিয়েছে। গত বছর ইউনূস ও তাঁর অনুগতরা ভাষা আন্দোলনে শহিদ মিনারের আলপনায় ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ চিত্রগাথা আঁকতে বাধ্য করেছিলেন। তা-ও তাদের বলে দেওয়া তিন রং— সাদা, কালো এবং লাল ব্যবহার করেই। মাতৃভাষার দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে কোনও যোগ না থাকলেও ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর গ্রাফিতি আঁকতে বাধ্য করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

    তবে এ বার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সংযোগকারী প্রতিটি সড়কে গত কয়েক রাত ধরে আলপনা এঁকেছেন কমপক্ষে ৫০০ শিক্ষার্থী। সেই আলপনাতেও রঙ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘুচিয়ে ফেলা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের আলপনা কমিটির আহ্বায়ক কাউসার হাসান টগর বলেন, ‘এ বার যেহেতু বাংলাদেশ একটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে, তাই আমরা আমাদের সেই ঐতিহ্যগত আলপনায় ফেরত গিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)