• নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড: DNA রিপোর্টে মিল, নিভে গেল শেষ আশাও
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক: স্বজন হারানোর গভীর যন্ত্রণার মধ্যেও একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে বুক বেঁধেছিল পরিবার। হয়তো কোনওভাবে বেঁচে গিয়েছে। অন্য কোথাওআাছে। যে কোনওসময় ফোন আসবে। কিন্তু ফোন এলেও তা এল না প্রিয়জনের কাছ থেকে। ফোনের অন্যপ্রান্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হল যে, পরিবারের রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিলে গিয়েছে। এতদিনের আশা নিভে গেল এক লহমায়।

    গত ২৫ জানুয়ারির রাতে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ২১ জন শ্রমিক। সেই রাতের পর থেকে খোঁজ মিলছিল না অনেকেরই। প্রথম দিকে তাঁদের অনেকের পরিবারের বিশ্বাস ছিল, হয়তো তাঁরা কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন। হয়তো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু দিন গড়িয়ে সপ্তাহ, মাস কেটে যাওয়ার পরেও কোনও খবর না পেয়ে আতঙ্ক বাড়ে।

    শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশে মৃতদেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, পাঁশকুড়া, ময়না, নন্দকুমার, সুতাহাটা ও শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ২১টি পরিবারের সদস্যদের নমুনা নেওয়া হয়েছিল ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। জানা গিয়েছে, ১৬ জনের ডিএনএ মিলে গিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের তরফে এমন ফোনে পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা। তবে এখনও ডিএনএ রিপোর্ট আসেনি জেলার পাঁচ জনের।

    নিখোঁজ শ্রমিক ক্ষুদিরাম দিন্দার ছেলে নারায়ণ বলেন, 'শুক্রবার বিকেলে ব্লক অফিস থেকে ফোন আসে। জানানো হয়, আমাদের পরিবারের সদস্যের ডিএনএ রিপোর্ট মিলে গিয়েছে। শনিবার সকালে আমাদের নরেন্দ্রপুর থানায় যেতে হবে।' অন্যদিকে, নিখোঁজ একাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবাদিত্য দিন্দার বাবা শংকর দিন্দা জানান, 'আমাদের এলাকায় অনেকে নিখোঁজ ছিল। প্রশাসনের লোকেরা তাঁদের পরিবারকে ফোন করেছে। এখনও আমাদের কাছে খবর আসেনি। অপেক্ষা করছি—কী খবর আসে, জানি না। হয়তো ছেলেও আর নেই।'

    পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল বলেন, 'আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে জেলার মোট ২১ জন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের পরিবার থেকে ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের রিপোর্ট মিলেছে। পরিবারগুলিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।'

    নাজিরবাদ কাণ্ডে শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের দেহাংশ আজ শনিবার, তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, আজ মৃতের বাড়ির লোকজনকে নরেন্দ্রপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কিছু সরকারি প্রক্রিয়ার পর তাঁদের কাঁটাপুকুর মর্গে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সংরক্ষিত থাকা মৃতদের হাড়গোড় তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিকে, বাকি ৯টি পরিবার এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে বাকি ৯ জনের ডিএনএ ম্যাচিং–এর কাজ চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)