• দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক শূন্য হাসপাতাল, ভোগান্তিতে নামখানা-ফ্রেজারগঞ্জের বাসিন্দারা
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • স্বাধীনতার আগে তৈরি হওয়া হাসপাতাল, পরিকাঠামো সবই রয়েছে—কিন্তু নেই একজনও চিকিৎসক। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন ফ্রেজারগঞ্জ ও নামখানা এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে নার্স ও ফার্মাসিস্টের মাধ্যমেই কোনওরকমে পরিষেবা চালু রয়েছে দশ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে।

    জানা গিয়েছে, ১৯৪৫ সালে কলেরার প্রকোপের সময় ক্যাম্প আকারে হাসপাতালটির সূচনা হয়। সে সময় ছিটে বেড়া ও খড়ের ছাউনি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কাঠামোতেই চলত চিকিৎসা পরিষেবা। পরে ফ্রেজারগঞ্জের অমরাবতী এলাকায় স্থানীয় এক ব্যক্তির দান করা পাঁচ বিঘা জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে হাসপাতালটি স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক শূন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

    স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘অসুস্থ হলে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়।’ তাঁর কথায়,‘স্বাধীনতার আগেই এখানে চিকিৎসক ছিলেন। এখন পরিকাঠামো উন্নত হলেও চিকিৎসক নেই। অথচ ফ্রেজারগঞ্জে বকখালির মতো বড় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসেন। তাঁরা অসুস্থ হলে সমস্যায় পড়েন। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ জরুরি।’

    উল্লেখ্য, নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র বকখালি-তে প্রতিদিন বিপুল পর্যটকের আনাগোনা থাকে, যা এলাকায় একটি কার্যকর হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ বিষয়ে অভিষেক দাস, নামখানা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা রুগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—স্বাধীনতার আগের ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতাল কি আবার পূর্ণাঙ্গ পরিষেবায় ফিরবে? উত্তর খুঁজছে গোটা এলাকা।

  • Link to this news (এই সময়)